ফেনীতে নির্বাচনে অনিয়ম-সহিংসতার নানা অভিযোগ, প্রতিকার চান মঞ্জু

Printed Edition

ফেনী অফিস

ফেনীতে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন সংঘটিত অনিয়ম, সন্ত্রাস ও নির্বাচনোত্তর সহিংসতার বিচার ও প্রতিকার চেয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টির) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি ফেনী-২ (সদর) আসনে ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে তার পক্ষে জোটের নেতারা লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এ সময় জামায়াতের জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, প্রচার সম্পাদক ও ঈগলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আ ন ম আবদুর রহীম, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মোজাফফর আহমদ জাফরী, যুগ্ম-সম্পাদক আজিজ উল্যাহ আহমদী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা সদস্য সচিব শাহ্ ওয়ালী উল্যাহ মানিক, এবি পার্টির সদস্য সচিব মু. ফজলুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনের দিন সহিংসতার ডজনখানেক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মঞ্জু অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘ফরহাদনগর ইউনিয়নের চর কালিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঈগল মার্কার কর্মী রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপির সন্ত্রাসীরা মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জঘন্য কায়দায় জখম করে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জনগণ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের এলাহীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমার কর্মী ওসমান গণিসহ দু’জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। আমি নিজে গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করলেও পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মোটবী ইউনিয়নে এবি পার্টির নেতা মোর্শেদকে জীবননাশের হুমকি দেয়া হয় এমনকি তার পরিবারকেও লাঞ্ছিত করার ভয় দেখানো হয়। এ নিয়ে পরিবারের লোকেরা সে কেন নির্বাচনে ঈগলের পক্ষে ভোট করতে গেল এমন বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে তদন্ত করে, তার মোবাইল কল লিস্ট চেক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

পৌরসভার বিরিঞ্চি সুফিয়া নুরিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার বাবুল জোরপূর্বক কেন্দ্র দখলের উদ্দেশ্যে নেতাকর্মীসহ কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও কর্তব্যরত প্রিজাইডিং অফিসার হাজারী তাদের নিবৃত্ত করতে গড়িমসি করেন, বালিগাঁও ইউনিয়নের কাতালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার নির্বাচনী এজেন্টকে জখম করতে তাড়া করলে তিনি কোনোরকম পালিয়ে একটা বাড়িতে আশ্রয় নেন, সেখান থেকে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে। শর্শদী ইউনিয়নের ঘাগরা কেন্দ্রে আমার বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয় এবং অপহরণের হুমকি দেয়া হয়। ভোটগ্রহণ শেষেও তাদের তাড়া করে ধানের শীষের কর্মীরা। এমনকি কয়েকজনের বাড়িঘরেও হামলা করা হয়। ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনী বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমার ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে, যার নেতৃত্বে ছিল যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন, মিয়া ধন, আবদুল মালেক। ভোট প্রদানে বাধা দেয়ায় প্রতিবাদ করলে আলেম, বৃদ্ধ এমনকি নারীদের ওপরও হামলা চালায় ধানের শীষের কর্মীরা।

নির্বাচনের পর থেকে শর্শদি ইউনিয়নের উত্তর শর্শদি গ্রামে আমার নিজ বাড়ির সামনে থেকে শুরু করে, ঘাগরা, জাহানপুর, আবুপুর, দেবীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে আমার এজেন্ট ও ভোটারদের বাড়ি ঘরে হামলার হুমকি দিচ্ছে। ধর্মপুর, কাজিরবাগ, পাঁচগাছিয়া, মোটনি, কালিদহ, ধলিয়াসহ প্রায় সব ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী এবং আমাদের ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার, নির্যাতন ও হুমকি প্রদর্শন চলছে।’

ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্ব জোয়ার কাছাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আ ন ম আবদুর রহীম পরিদর্শনে গেলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় স্থানীয় যুবদল নেতা কামরুল ও তার সহযোগীরা। তাদের এলোপাতাড়ি হামলায় আ ন ম আবদুর রহীমসহ ছয়জন নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রধান এজেন্টের অনুমোদিত ব্যবহৃত গাড়িটি পৈশাচিক কায়দায় তারা ভাঙচুর করে বিধ্বস্ত করে। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

প্রশাসন নির্বিকার ছিল এবং পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়নি জানিয়ে অভিযোগে বলা হয়, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে বহু স্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রঙিন পোস্টারসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনকে আমরা নির্বিকার থাকতে দেখেছি। কিন্তু যখনই আমাদের কর্মীদের দ্বারা কোনো ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয় তখনই প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

যা সাম্য ও সমতার পরিপন্থী আচরণ, যা আমরা আপনাকে সময়ে সময়ে গোচরিভূত করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে মোটবি ইউনিয়নের ইজ্জতপুরে আমার নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়। আমার নিজের ইউনিয়ন শর্শদিতে মিছিলের প্রস্তুতিতে বাধা দিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হয়। এ ছাড়া প্রশাসনের কিছু অন্যায় আচরণের শিকারও হয়েছি আমি, যদিও পরে আপিলে তার কিছুটা প্রতিকার পেয়েছি। এসব ঘটনার বিষয়ে আপনাকে অবহিতকরণ ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দিলেও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার স্বার্থে রাজনৈতিক তেমন কোনো কর্মসূচি আমরা নেইনি।’

অভিযোগটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব, আইজিপি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও ফেনীর পুলিশ সুপারকে অনুলিপি দেয়া হয়েছে।