কৃষকের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা সাতক্ষীরায় ২ বিঘা তরমুজক্ষেত লণ্ডভণ্ড

Printed Edition
bangla-2
দুর্বৃত্তদের কেটে ফেলা তরমুজ গাছ হাতে নিয়ে ক্ষেতে বসে আছেন আমিন আলী : নয়া দিগন্ত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে এক কৃষকের দুই বিঘা জমির তরমুজক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জমিতে লাগানো তরমুজের চারাগুলো সব উপড়ে ফেলে ক্ষেতজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে দিয়েছে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারটি চরম আর্থিক সঙ্কটের আশঙ্কায় পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আমিন আলী দীর্ঘ দিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় মক্তবে পাঠদান করেন এবং মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেন। সংসারের খরচ চালাতে চলতি মৌসুমে তিনি নিজের দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। কিন্তু গত রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা তার ক্ষেতে লাগানো সব তরমুজের চারা উপড়ে ফেলে দিয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে জমিতে গিয়ে এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন আমিন আলী। তিনি দেখতে পান, তার ক্ষেতের প্রতিটি চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে। আশপাশের জমিগুলোতে তরমুজের চারা অক্ষত থাকলেও শুধু তার ক্ষেতেই এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। আমিন আলীর ভাই মোমিন আলী বলেন, ‘আমার ভাই একজন গরিব কৃষক ও অভাবী মানুষ। ক্ষেত-খামারের উপার্জনেই তার সংসার চলে। তার সাথে এমন অমানবিক আচরণ সত্যিই মর্মান্তিক। দেশের দীর্ঘ দিনের অস্থিরতার পর আমরা যখন একটু শান্তি ও সুশাসনের আশা করছিলাম, তখনই আমাদের এমন ক্ষতি করা হলো। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’ পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন মাওলানা আমিন আলী। নির্বাচনের কয়েক দিনের মধ্যেই তার ফসলি জমিতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় পরিবারের ধারণা, রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো তার তরমুজ ক্ষেতে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মাওলানা আমিন আলী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে কারো সাথে আমার কোনো বিরোধ বা শত্রুতা নেই। আমি সারা বছর পরিশ্রম করে ফসলই ফলাই। মূলত এই ফসলের ওপরই চলে আমারে সংসার। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেই যদি আমার ফসল নষ্ট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা চরম অন্যায়। যারা এ কাজ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার স্ত্রী বলেন, ‘এই তরমুজক্ষেতই ছিল আমাদের পরিবারের আয়ের উৎস। সারা বছরের আয় এখান থেকেই আসার কথা ছিল। যারা আমাদের উপার্জনের পথ বন্ধ করে দিলো, আমরা তাদের কঠোর শাস্তি চাই।’

এলাকাবাসীরা জানান, মাওলানা আমিন আলী একজন শান্ত প্রকৃতির মানুষ। স্থানীয়ভাবে তার সাথে কারো শত্রুতা নেই। তাদের ধারণা, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়া এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানোই হয়তো তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।