ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে : চীন-রাশিয়া
Printed Edition
এএফপি
ভেনিজুয়েলার ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছে চীন ও রাশিয়া। মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে অংশ নিয়ে তারা সমালোচনা করেন।
রাশিয়া ও চীনের সমর্থনে ভেনিজুয়েলার অনুরোধে জরুরি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় বৈঠকে চীন অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নৌচলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণœ করছে। বেইজিংয়ের মতে, এসব পদক্ষেপ একতরফা জবরদস্তির শামিল, যা গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
মাদকবিরোধী অভিযানের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করে চীন সতর্ক করেছে, এ ধরনের কার্যক্রম বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার উপকূলের কাছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং তেল রফতানি জাহাজ আটকানোর মাধ্যমে সামুদ্রিক অভিযান জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর সম্পূর্ণ অবরোধ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন এবং জব্দ করা তেল যুক্তরাষ্ট্রের মজুদে যুক্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাশিয়া চীনের অবস্থানের সাথে একমত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে ‘কাউবয়-সুলভ’ বলে আখ্যা দেয় এবং বলে, এই অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের তাগিদ দিয়েছে।
তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের গোলার্ধ্ব, আমাদের সীমান্ত এবং আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষমতায় সব কিছু করবে। এই বিরোধের প্রভাব ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরেও পড়েছে। কারাকাসে দেশটির জাতীয় পরিষদে নৌ অবরোধ সমর্থনকে জলদস্যুতা হিসেবে বর্ণনা করছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের প্রস্তাবও রয়েছে।
মাদুরোকে সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে : যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র জাতিসঙ্ঘকে জানিয়েছে, তারা ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘যতটা সম্ভব’ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তা প্রয়োগ করবে। এ নিয়ে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলো এর পরবর্তী শিকার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক মাস ধরে ভেনিজুয়েলার উপকূলের অদূরে ক্যারিবীয় সাগরে ও লাতিন আমেরিকার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানরত সন্দেহভাজন নৌযানগুলোতে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনিজুয়েলায় স্থল হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ‘এই গোলার্ধের জন্য, আমাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুতর একক হুমকি হলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলো।’
যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে আর ট্রাম্প মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সব জাহাজ অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত মার্কিন কোস্টগার্ড ক্যারিবীয় সাগরে দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। এই দু’টি ট্যাঙ্কারেই ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ভরা ছিল।
এরপর মার্কিন কোস্টগার্ড ওপেকভুক্ত দেশ ভেনিজুয়েলার বন্দরের দিকে এগোতে থাকা তৃতীয় একটি জাহাজকে ধাওয়া করে, যেটি খালি ছিল। ওয়াল্টজ বলেছেন, পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল ট্যাঙ্কারগুলো মাদুরো ও তার অবৈধ শাসনের জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত এসব ট্যাঙ্কার মাদক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কার্টেল দে লোস সোলেসের তহবিলও জোগায়।’