পুরনো ভবন নতুন রূপে পেয়ে উচ্ছ্বসিত বেতিবুনিয়া প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা
Printed Edition
চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বছরের প্রথম দিনেই ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবন সংস্কার করে নতুন রূপে ফিরে পাওয়ায় আনন্দে উচ্ছ্বসিত বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলা জরাজীর্ণ দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংস্কারকৃত ভবনের সামনে ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীকে পেয়ে শিক্ষার্থীরা আবেগে রূপ্লুত হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২৪ নম্বর বেতিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৪ সালে জাতীয়করণ হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে নির্মিত টিনছাউনি দুই কক্ষের ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়া পলেস্তারা ও ছেঁড়া টিনের কারণে বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ত। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ওই ভবনেই পাঠদান করতে হতো, কখনো জায়গার অভাবে বারান্দায় ক্লাস নিতে হতো।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি উপজেলা প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেনের নজরে এলে তিনি ইউএনও সাজ্জাদ হোসেনের সাথে আলোচনা করেন। পরে তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে স্বল্প বাজেটে নিজস্ব তদারকিতে ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অনিক শেখ ও নুসরাত জাহান জানায়, আগে ক্লাস করতে ভয় লাগত এবং বৃষ্টি হলেই বই-খাতা ভিজে যেত। এখন তারা নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারবে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসীন কাজী বলেন, শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হতো, সংস্কারের ফলে সেই সমস্যা দূর হয়েছে। প্রধান শিক্ষক কবিতা রাণী মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়ের ১১৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য এটি বড় স্বস্তি। ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। উপজেলা প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, সংবাদটি পড়ে শিশুদের কথা ভেবে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হয়। ইউএনও সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এটি সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই করা হয়েছে।