লীগ আমলে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার প্রতিকার চান কুয়েট শিক্ষার্থী জাহিদুর

শিক্ষাজীবনের ২ বছরই নষ্ট

Printed Edition

খুলনা ব্যুরো

ফেসবুকে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ২০২২ সালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান বানোয়াট মামলায় ৫২ দিন কারাভোগ করেন এবং ছাত্রলীগ ক্যাডারদের নির্যাতনের শিকার হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় নিলেও ন্যায়বিচার ও আইনগত প্রতিকার পেতে এখনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাহিদুর রহমান।

গতকাল বুধবার খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে কুয়েট কর্তৃপক্ষের কাছে তিন দফা দাবি জানান এবং ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অথবা উচ্চ আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জাহিদুর রহমান বলেন, ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কুয়েট ছাত্রলীগের হাতে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন কুয়েট প্রশাসন তার পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো প্রশাসনই বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে। ওই মামলায় ১৫ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিক্যাল কলেজের প্রিজন সেল থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ৫২ দিন কারাভোগের পর ২ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

তিনি জানান, মুক্তির পর বারবার নিরাপত্তা চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি এবং তার শিক্ষাজীবন থেকে প্রায় দুই বছর হারিয়ে যায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তিনি আবার ক্যাম্পাসে ফেরেন এবং ঘটনার বিচার চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর কুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ পাঁচ মাস তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি ১৩ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, যার মধ্যে ১০ জনের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও জাহিদুর অভিযোগ করেন, ঘটনার সাথে জড়িত তৎকালীন ভিসি মিহির রঞ্জন হালদার, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ইসমাইল সাইফুল্লাহ, হল প্রভোস্ট হামিদুল ইসলাম ও সহকারী হল প্রভোস্ট সুনন্দ দাসসহ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ ছাড়া মিথ্যা মামলার বাদি কুয়েটের সিকিউরিটি ইনচার্জ সাদেক হোসেন প্রামাণিক এখনো বহাল রয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য আবেদন ও আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জাহিদুর রহমানের দাবিগুলো হলো- তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, জড়িত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা এবং তার ক্ষতিপূরণ ও অ্যাকাডেমিক জীবন নির্বিঘœ করার নিশ্চয়তা।