অবশেষে বিশ্বকাপে লাউতারোর গোল
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক, নিউ ইর্য়ক থেকে
আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। নিজ পারফরম্যান্স ও যোগ্যতায় ইতালিয়ান শীর্ষ ক্লাব ইন্টার মিলানের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন। গোলের পর গোল করে ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় জিতেছেন সর্বোচ্চ গোলাদাতার গোল্ডেন বুট। তবে বিশ্বকাপে গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না। এই গোল খরার কারণে কাতার বিশ্বকাপে একাদশ থেকে জায়গা হারিয়েছেন। এরপর বদলি হিসেবে নেমেও গোল গোলখরায় ভোগা। শেষ পর্যন্ত চলমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা বিশ্বকাপে পেলেন গোলের দেখা। অবশ্য তা অধিনায়ক লিওনেল মেসি মাঠে না থাকার সুবাদে। জর্দানের বিপক্ষে তিনি পেনাল্টিতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের প্রথম গোলটি করেন।
২০১৮ সালে আর্জেন্টিনা সিনিয়র দলে প্রথম ডাক পান মার্টিনেজ। গনজালো হিগুয়েনের বদলে খেলতে নামেন। স্পেন ও ইতালির বিপক্ষে অবশ্য গোলের দেখা পাননি। ২০১৮ বিশ্বকাপ দলে তিনি প্রথমে ডাক পেলেও পরে বাদ পড়েন। বিশ্বকাপের পর ইরাকের বিপক্ষে প্রথম ফিফা প্রীতি ম্যাচে গোলের দেখা মার্টিনেজের। এরপর ২০২১ সালের কোপা আমেরিকায় গোলের পর গোল তার। বলিভিয়া, ইকুয়েডর, কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোল পেয়েছেন। ২০২২ সালের কোপা ফিনালেসিমাতেও তার গোল। এর আগে ২০১৯ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেন। তবে শুধু বিশ্বকাপেই গোল আসছিল না।
কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করলেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ওই ম্যাচে হেরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। পরের ম্যাচেও গোলহীন থাকায় জুলিয়ান আলভারেজের কাছে একাদশে জায়গা হারান। সুযোগ পেয়ে আলভারেজ গোল করতে থাকেন। আর মার্টিনেজকে বেঞ্চে বসে তা দেখতে হতো। কাতার বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নক আউট পর্বের প্রায় সব ম্যাচেই খেলতে নামেন। তাকে দিয়ে গোল করানোর অনেক চেষ্টাই করেছেন লিওনেল মেসি। তবে বল আর জালে ঠেলতে পারছিলেন না।
অবশ্য এরপরও গত বিশ্বকাপে একটি গোলের জন্য আলোচনায় আসেন তিনি। আর তা হলো কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক গোল। তার শেষ শটেই ডাচ বাধা পেরিয়ে সেমিতে উঠা।
কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আজেন্টিনা দলে তার অবদান ওই একটিই। এরপর ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাতে ফের গোলের দেখা তার। সে আসরে আর্জেন্টিনা যেমন শিরোপা জিতেছে তেমনি লাউতারো দখলে নেন গোল্ডেন বুট। আসরে ৫ গোল দিয়ে তিনি এই পুরস্কার পান। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে তার গোলেই ১-০ তে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া কানাডা ও চিলির বিপক্ষে একটি করে এবং পেরুর বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ ম্যাচে ৩৮ গোল করা এই ফুটবলার ইন্টার মিলানের হয়ে ২৫৭ ম্যাচে ১৩২ গোল করেছেন। এবারও তাকে ঘিরে অনেক আশা ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে গোল পাননি। শেষ পর্যন্ত মেসির অনুপস্থিতিতে পেনাল্টিতে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের দেখা তার। এই গেরো কাটানো গোলের পর কি তিনি এই বিশ্বকাপে আরো গোলের দেখা পাবেন। আর্জেন্টাইন সমর্থকরা তার কাছে সেটাই আশা করেন।