বেতাগীতে মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন কম খরচে বেশি লাভে চাষিদের মুখে হাসি
Printed Edition
মো: কামাল হোসেন খান বেতাগী (বরগুনা)
মাঠজুড়ে সবুজ লতায় ভরা মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত। গাছে গাছে হলদে ফুল আর গুটি গুটি কুমড়া দেখে চাষিদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি। বরগুনার বেতাগী উপজেলায় চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত বছর লাভজনক ফলন পাওয়ায় এ বছরও চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বেতাগী উপজেলায় ১৯৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতেই ফলন ভালো হয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কুমড়া চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বেতাগী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বেতাগী গ্রামের কৃষক আতিকুর রহমান পল্টু ৬৫ শতক জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন। তিনি জানান, নিয়মিত সেচ, আগাছা দমন, জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং পোকার আক্রমণ রোধে কীটনাশক ব্যবহার করছেন। গত বছর একই জমিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কেজি মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এ বছর ফলন আরো ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, মিষ্টি কুমড়া তুলনামূলক উঁচু জমিতে ভালো ফলন দেয়। ফল ধরার সময় পোকার আক্রমণ ও রোগবালাই প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করলে ফলন আরো বৃদ্ধি পায়। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও মিষ্টি কুমড়া অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স, সি ও ই ছাড়াও পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক ও বিটা-ক্যারোটিনসহ নানা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মিষ্টি কুমড়ার ভালো ফলন হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।’ তিনি আরো জানান, জাব পোকা ও ফল পচা রোগ দমনে নির্দিষ্ট মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বেতাগীতে মিষ্টি কুমড়ার সফল চাষ কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বস্তি দিচ্ছে এবং সবজি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।