ঝালকাঠিতে কাগজে কলমে খাল খনন, বাস্তবে ময়লার ভাগাড়

Printed Edition
bangla-1
ঝালকাঠি পৌরসভা সংলগ্ন খালটি আদৌ খনন করা হয়নি : নয়া দিগন্ত

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি

প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। নথিপত্র বলছে, কাজ শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু ঝালকাঠি পৌর শহরের সাতটি খালের চিত্র বদলায়নি একটুও। খননের নামে সরকারি অর্থের শ্রাদ্ধ হলেও খালগুলো রয়ে গেছে আগের মতোই ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা লোপাট হয়েছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় ঝালকাঠি পৌরসভার সাতটি খাল ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছিল। পচা পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন শহরের অন্তত ২০ হাজার মানুষ। এই জনভোগান্তি লাঘবে নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট খাল খনন প্রকল্প হাতে নেয় পৌরসভা। এক কোটি ৩৩ লাখ ৩৭৭ টাকা ব্যয়ে এই কাজের কার্যাদেশ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আজমীর বিল্ডার্স’। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দৃশ্যপট ভিন্ন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের দখল ও দূষণ আগের অবস্থাতেই রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, পৌরসভা বড় বাজেট দেখালেও সাতটি খালের মধ্যে মাত্র তিনটিতে নামমাত্র মাটি টানা হয়েছে। বাকিগুলোতে কোনো কাজই হয়নি। এটি কেবল লোকদেখানো নাটক ছিল। ফকিরবাড়ি এলাকার মনসুর আলীর আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষায় এই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নেবে।

একই উদ্বেগ কবিরাজবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ আল আমিন বাকলাইয়ের। তিনি বলেন, খালের উৎস মুখগুলো কাটা হয়নি। ফলে পানি ও ময়লা সরার কোনো পথ নেই। বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা শুরু হয়ে গেছে। সামনে কী হবে আল্লাহ জানেন।

তবে দায় নিতে নারাজ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। একে অপরকে দুষছেন ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদার এবিএম সারোয়ার হোসেনের দাবি, গত ৫০ বছর এসব খাল খনন না হওয়ায় অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। উল্টো অভিযোগ করে তিনি বলেন, পৌরসভা আমাদের পাওনা বিলের অর্ধেক এখনো পরিশোধ করেনি।

ঝালকাঠি পৌরসভার প্রকৌশলী টি এম রেজাউল হক রিজভী বলেন, কাজের মান ও অসম্পূর্ণতা নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হবে। ঝালকাঠি পৌরসভার প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে এই সাতটি খালের দুই পাড়েই বসবাস করেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এক বছর আগে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও খালের প্রাণ না ফেরায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। সাধারণ মানুষের দাবি, দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে দ্রুত খালগুলো সচল করা হোক।