ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির চাপ সামাল দিতে কাজ করছে সরকার : তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা
Printed Edition
বাসস
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ভর্তুকি দিয়ে চাপ সামাল দিতে কাজ করছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের অধীন পিআইডির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এ প্রকল্পের জন্য এডিপির আওতায় প্রায় এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং একই সাথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫৪ জেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রমজান মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানে ১ হাজার ৬০৬টি মামলায় প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ট্রাক সেলের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, হাম রোগের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হলেও সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশে একযোগে টিকা দেয়া হবে। ২১ মে তারিখের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, টিকা সঙ্কট একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এবং এতে অতীতের গাফিলতির প্রভাব রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চলছে। নৌ পরিবহন খাতে সব নৌযানকে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পরিবেশ খাতে এক কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন এবং প্রায় ১৯৮ একর বনভূমি উদ্ধার করে পুনরায় বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নে নতুন প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং আগামী ৩০ এপ্রিল এ কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকজয়ী ১২৯ জন খেলোয়াড়কে মাসিক ভাতা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতে নিহত বাংলাদেশীদের মৃতদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। নিহতদের পরিবারকে তিন লাখ টাকা এবং বীমা হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সড়ক পরিবহন খাতে গণপরিবহনে জিপিএস চালু, অনিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টার বন্ধ এবং ফেরিঘাটে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংস্কৃতি খাতে শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে নতুন প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার সব খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’