গ্রিন ও ক্লিন নারায়ণগঞ্জ সিটি গড়তে ৬০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি
নাসিকের নতুন প্রশাসকের যাত্রা শুরু
Printed Edition
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নিয়েছেন। গতকাল বুধবার দায়িত্বভার গ্রহণ করতে নগরভবনে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি। চেয়ারে বসেই নবনিযুক্ত প্রশাসক নগরবাসীর সহায়তা চেয়েছেন। গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়তে ৬০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি নেয়ার কথা জানান নাসিকের নতুন প্রশাসক সাখাওয়াত ।
তিনি বলেছেন, বর্তমানে সিটির নাগরিক সমাজ অত্যন্ত দুরবস্থায় আছে। এই দুরবস্থা আমরা রক্ষা করব। যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের একটি ৬০ দিনের কর্মসূচি হাতে নেব এবং সেই কর্মসূচির মাধ্যমে ন্যূনতম সমস্যাগুলো সমাধান করব। আমি এটাকে পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে মনে করি এবং নগরবাসীর সবার সহযোগিতা চাই।
নতুন নাসিক প্রশাসক বলেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে মশা নিধন, কারণ সামনে বৃষ্টির মৌসুম আসছে। এই মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। সেখান থেকে মানুষকে বাঁচাতে আমরা মশা নিধন করব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করব এবং ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার করব।
তিনি বলেন, হকার সমস্যা এবং অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের যানজট বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে চরমভাবে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জে। আমরা এটি চিহ্নিত করেছি। এই ৬০ দিনের মধ্যেই এটাকে অন্তত সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করব। হকাররাও আমাদের নাগরিক। তাদের নিয়ে বসে আলোচনা করব কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়। অটোরিকশা ও যানবাহনের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করব।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ধুলাবালু। শহরের ধুলাবালুতে মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এই ধুলাবালু পরিষ্কার করে শহরকে অন্তত কিছুটা ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। পাশাপাশি গ্রিন সিটি গড়তে গাছ লাগাব।
তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি আমার কোনো ত্রুটি পান, আগে আমাকে জানাবেন। আমি তা সমাধানের চেষ্টা করব। আমি চাই নাগরিকদের সেবা দিতে। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলাম এবং আমাদের সফল হতেই হবে। যদি আমি সফল না হই, তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সফল হবেন না, আমাদের এমপি সাহেবরা সফল হবেন না।
সাবেক কাউন্সিলরদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সাবেক কাউন্সিলরদের নিয়েও বসব এবং তাদের এই সিটি করপোরেশনের কাজে লাগাব। প্রতিটি ঘরে ঘরে, মহল্লায় মহল্লায় আমাদের দলীয় লোক আছে। তবে এখন দল নয় বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে আমি সমান আচরণ করতে চাই। আমরা সবার প্রতি সমান আচরণ করব এবং সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পরিবর্তন ঘটাব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সচিব মো: নূর কুতুবুল আলম, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসূফ খান টিপু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, মাকসুদুল আলম খন্দকার, শাহেনশাহ্, সাবেক সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা, দিলারা মাসুদ ময়না, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধানসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।