ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন : ফ্রান্স-ইতালি
Printed Edition
আনাদোলু এজেন্সি ও এপি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো সাম্প্রতিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে ফ্রান্স ও ইতালি। এই হামলা সমর্থনযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে উভয় দেশ। ইরানের ওপর ইসরাইলি-মার্কিন বাহিনীর চলমান হামলাকে ‘অনুমোদন করতে পারে না’ বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স। এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এসব বার্তা দিয়েছেন।
ফরাসি গণমাধ্যম ফ্রান্স ২-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বারোট বলেন, এই সঙ্ঘাতের সাথে ফ্রান্সের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধকে সমর্থন করি না এবং আমরা এতে অংশ নিচ্ছি না।’ ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড মেনে চলছে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, যথাযথ উদ্দেশ্য ছাড়া এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, এই হামলায় এ পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজার জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও ফ্রান্স পশ্চিমা জোটের এই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছে, তবুও তেহরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বারোট। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি ইরান একটি অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক শক্তি হওয়ার অবস্থান ত্যাগ করবে।’
তিনি আরো যোগ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের আঞ্চলিক অবস্থানে আমূল পরিবর্তন এবং বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে। সঙ্ঘাতের সরাসরি অংশীদার না হলেও, বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ রক্ষায় ফ্রান্স একটি বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারোট নিশ্চিত করেছেন যে, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এই মিশনে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় কিছু দেশও এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে। এই মিশনটি হবে মূলত রক্ষণাত্মক এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে এর প্রধান কাজ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান ইতোমধ্যেই ইসরাইল, জর্দান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের এই অবস্থান পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে একটি কূটনৈতিক বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো সাম্প্রতিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। এপি জানায়, বুধবার ইতালির সিনেটে দেয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। সিনেট সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে মেলোনি বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতির গভীর সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক সঙ্কট চলছে যেখানে হুমকিগুলো ক্রমশ আতঙ্কজনক হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমানার বাইরে গিয়ে একতরফা হস্তক্ষেপের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ইরানি শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক হস্তক্ষেপকে বর্তমানের সেই বৃহত্তর বৈশ্বিক সঙ্কটেরই একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।