বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা কোটিপতি, জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা

Printed Edition
bangla 4
বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা কোটিপতি, জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা

বগুড়া অফিস

আগামী নির্বাচনে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দী-সোনাতলা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামা ও আয়কর নথি অনুযায়ী পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই কোটিপতি। তবে, প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ, শত কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ, ফৌজদারি মামলা এবং আয়ের উৎসে অস্পষ্টতার তথ্য মিলছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা: শাহাজাদী আলম লিপির স্বামী পুলিশের বরখাস্তকৃত অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন আওয়ামী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পর তার চাকুরি ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। তার স্ত্রী লিপি ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী লিপির হলফনামায় আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি নিজেকে প্রায় ৭৯ লাখ টাকার সম্পদের মালিক হিসেবে দেখিয়েছেন। এর মধ্যে নগদ অর্থই রয়েছে ৫৯ লাখ টাকার বেশি। জমি, স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে অঙ্কটি আরো বাড়ে। তবে আয় হিসেবে তিনি কৃষি ও বাড়িভাড়া থেকে তিন লাখ টাকার বেশি দেখালেও বছরে ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস উল্লেখ করেননি। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ছয়টি মামলা, যার তিনটি প্রতারণা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত এবং তিনটি জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী (২য় দফা) এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকিরের বিরুদ্ধে রয়েছে ২৩টি মামলা। এর মধ্যে রাজনৈতিক মামলার পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ধারায় দায়ের করা মামলাও রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ২০ মামলায় অব্যাহতি, একটি মামলায় খালাস এবং দু’টি মামলা খারিজ হয়েছে। হলফনামায় তার ও তার পরিবারের প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা এবং চলতি বছরে কর পরিশোধ করেছেন এক লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

এ আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম। তার হলফনামায় একদিকে বিপুল সম্পদের দাবি, অন্যদিকে উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য অঙ্কের ব্যাংক ঋণের তথ্য। তিনি নিজেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নগদ অর্থই রয়েছে ৩৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা, শেয়ার, বীমা ও অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে অঙ্ক আরো বাড়ে। একই নথিতে তিনি জানিয়েছেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ২৬১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ৪৮৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া একই ব্যাংকে আরেকটি ঋণের অঙ্ক উল্লেখ না করে শুধু জানিয়েছেন, সেটি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে রয়েছে। অর্থাৎ ঘোষিত দুই ব্যাংকের হিসাবেই তার ঋণ দাঁড়ায় ৭৪৬ কোটি টাকারও বেশি। সর্বশেষ গত রোববার হাইকোর্ট তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত একক প্রার্থী মো: শাহাবুদ্দিন পেশায় অবসরপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যক্ষ। বর্তমানে তিনি বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতমাথার সম্পাদক ও প্রকাশক। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তার বিরুদ্ধে ৩০টি মিথ্যা ও রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়। বছরের পর বছর তিনি কারাবন্দী ছিলেন এবং ফেরারি জীবন যাপন করেছেন। তিনি ছয়টি মামলায় খালাস পেয়েছেন, একটি মামলা বিচারাধীন এবং বাকিগুলো সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার সম্পদের পরিমাণ অন্য প্রার্থীদের তুলনায় কম। নিজের ও স্ত্রীর নামে তার অর্জনকালীন সম্পদ ২০ লাখ টাকার নিচে। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এগিয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই প্রার্থী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।