ভ্যাটের সব পেপার রিটার্ন ইভেন্ট সিস্টেমে এন্ট্রি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর

Printed Edition

বাসস

ভ্যাটের সব পেপার রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভ্যাট ব্যবস্থায় সব করদাতার রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে সংরক্ষণ করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এনবিআর। করদাতারা এযাবৎকালে হার্ড কপি আকারে দাখিলকৃত সব মাসিক রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে এন্ট্রি করার জন্য ই-ভ্যাট সিস্টেমে হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি নামে একটি নতুন সাব-মডিউল সংযোজন করা হয়েছে। ওই সাব-মডিউলটির কর্মসম্পাদন প্রক্রিয়ার বিষয়ে এনবিআর আজ একটি পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্রটি যথাযথভাবে অনুসরণ করে করদাতারা নিজেরাই ই-ভ্যাট সিস্টেমে তাদের পূর্বের দাখিলকৃত হার্ড কপি রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করতে পারবেন।

এনবিআর জানায়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত পেপার রিটার্ন (হার্ড কপি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-৫ ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রিকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটের সেন্ট্রাল প্রসেসিং সেন্টার (সিপিসি) ব্যবহার করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ভ্যাট কর্মকর্তারা করদাতাদের দাখিলকৃত হার্ড কপি রিটার্নের তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করেন। ভ্যাট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি করা হলে এতে কোনো ভুল হলে এর দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়। তা ছাড়া, ভ্যাট অফিস কর্তৃক বিপুল পরিমাণ পেপার রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি দেয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ কাজ।

বিদ্যমান পদ্ধতিতে দাখিলকৃত পেপার রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে যথাসময়ে এন্ট্রি করা সম্ভব হয় না বিধায় করদাতাগণের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদ ও জরিমানা আরোপিত হচ্ছে। এ কারণে পরবর্তীতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে চাইলেও জরিমানা পরিশোধ না করে অনলাইনে রিটার্ন দেয়ার সুযোগ না থাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন না। হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি সাব-মডিউলটি সংযোজনের ফলে যেসব করদাতা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৬৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হার্ড কপি রিটার্ন দাখিল করেছেন তারা এখন জরিমানা ও সুদ ব্যতিরেকে ই-ভ্যাট সিস্টেমে তাদের দাখিলকৃত হার্ড কপি রিটার্ন নিজেরাই এন্ট্রি করতে পারবেন।

করদাতারা তাদের ই-মেইল ও মোবাইল ফোনে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ই-ভ্যাট সিস্টেমের লিঙ্ক পাবেন যার মাধ্যমে সহজেই হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি সাব-মডিউলটি ব্যবহার করতে পারবেন।

পূর্বের দাখিলকৃত সব হার্ডকপি রিটার্ন করদাতারা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোনো জরিমানা ও সুদ ব্যতিরেকে সিস্টেমে নিজেরাই এন্ট্রি করতে পারবেন।

পূর্বের দাখিলকৃত পেপার রিটার্নগুলো ই-ভ্যাট সিস্টেমে এন্ট্রি সম্পন্ন হলে সব করদাতা নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সব কার্যক্রম ডিজিটাল করার মাধ্যমে করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার চলমান উদ্যোগে করাদাতাগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।