মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখে আরেকটি মার্কিন নৌবহর পাঠানোর তোড়জোড়

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের ওপর সামরিক চাপ আরো জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি খবরে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানে সম্ভাব্য হামলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ দেননি। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

জানা গেছে রণতরী পাঠানোর নির্দেশটি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসতে পারে। ভার্জিনিয়া উপকূলে বর্তমানে মহড়া দিচ্ছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং নির্দেশ পাওয়ামাত্রই এটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে প্রস্তুত। যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে এটি ওই অঞ্চলে আগে থেকেই অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সাথে যোগ দেবে। গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে একটি শক্তিশালী নৌবহর পাঠিয়েছে এবং প্রয়োজনে আরো একটি পাঠানো হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনার টেবিলে কোনো সমাধান না এলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

এই সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই বুধবার হোয়াইট হাউজে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় তিনি জানান, ইরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোই তার প্রথম পছন্দ, তবে তা সম্ভব না হলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ে ইরান এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন করে কোনো মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেয়া হবে।