কাশিমপুর কারাগারে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু
Printed Edition
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শহিদুল ইসলাম শিপু (৫৪) গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ মারা গেছেন। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মারা যাওয়া শহিদুল ইসলাম শিপু গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা এবং রফিক কন্ডাক্টরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী অবস্থায় বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার মো: আবুল হোসেন জানান, রোববার সকালে কারাগারের ভেতরে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শহিদুল ইসলাম শিপু। দ্রুত তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার বিকেলে লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টায় টঙ্গী গোপালপুর টিএন্ডটি মাঠে নিহতের জানাজা শেষে লাশ সিটি করপোরেশনের গোপালপুর গোরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই মতিউর রহমান মতি ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলাটি ব্যবহার করে তৎকালীন যুবদল কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল ইসলাম সরকার, জাতীয় ছাত্রসমাজের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম দিপু এবং তার দুই ভাই শহিদুল ইসলাম শিপু ও অহিদুল ইসলাম টিপুসহ একাধিক ব্যক্তিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করে আসামি করা হয়।
২০১৬ সালে হাইকোর্ট এ মামলার রায়ে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং ১১ জনকে খালাস দেন। বর্তমানে এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আপিল বিভাগে ঝুলে রয়েছে।