ভিত্তিপ্রস্তরের ১০ বছর পরও ভবনহীন বাদাঘাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্র
Printed Edition
মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বাদাঘাট বাজারে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি। ফলে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে বাদাঘাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম। এতে এক দিকে পুলিশ সদস্যদের দাফতরিক ও আবাসিক দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্য দিকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাদাঘাট বাজার তাহিরপুর উপজেলার অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়। পরে এটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে রূপ নেয়।
বর্তমানে তদন্তকেন্দ্রে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুইজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং সাতজন কনস্টেবলসহ মোট ১০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জনবল প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের উদ্যোগে তদন্ত কেন্দ্রের জন্য জয়নাল আবেদীন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এলাকার পাশে ৫১ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়। পরে ২০১৬ সালে বাদাঘাট-দীঘিরপাড়-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে নতুন ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর আর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
কর্তব্যরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিজস্ব ভবন না থাকায় পুরোনো টিনশেড ঘরেই দাফতরিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে, কক্ষের ভেতরে আর্দ্রতা তৈরি হয়। নেই পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, নিরাপদ অস্ত্রাগার বা চার পাশে সুরক্ষা বেষ্টনী। ফলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজকর্মেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের জন্য জমি রয়েছে, ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, এই বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।