অসিদের মাটিতে সুযোগ কাজে লাগাতে উন্মুখ শান্ত

Printed Edition
Sports-1

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০০৩ সালে একমাত্র টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষার পর আবার দুই টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই লম্বা বিরতির কারণে অনেক ক্রিকেটারই ক্যারিয়ার শেষ করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে না পারার আপে নিয়ে। সেই তালিকায় নাম উঠবে না বলে ভীষণ খুশি ২৭ বছর বয়সী নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্যারিয়ারের প্রথমবার অসিদের মাটিতে টেস্টে খেলতে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে উন্মুখ টাইগার অধিনায়ক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবানও মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে গতকাল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলন ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। সেখানে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শুরুর আগেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে শান্তর প্রশ্ন- এই সিরিজে আপনাদের প্রত্যাশা কী? এর মধ্যেই একজনের জবাব, ‘ভালো খেলা’। রসিকতা করে অধিনায়কও সাথে সাথেই জবাব দিলেন, ‘আমি এমন কথা বললে পছন্দ হতো’? এক সাংবাদিকের পাল্টা জবাব, ‘সুমন ভাই (প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার) বলে গেছেন, সম্মান নিয়ে ফিরতে চান।’

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে এরপর চলল পনেরো মিনিটের মতো প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। চোট, সিরিজ নিয়ে রোমাঞ্চ- এমন অনেক প্রশ্নের ভিড়ে আসন্ন সিরিজে নিজের প্রত্যাশা নিয়েও জানতে চাওয়া হয় শান্তর কাছে।

শান্ত বলেন, ‘আমাদের মূল ল্য থাকবে কিভাবে আমরা ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করতে পারি। ওখানে যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই তারা আবার ভবিষ্যতে (খেলার জন্য) আমন্ত্রণ জানাবে।’

তিনি যোগ করেন, ‘প্রতিটা ম্যাচই জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ওদের কতটুকু কঠিন সময় দিতে পারি, এই জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা এমন দুইটা ম্যাচ খেলতে পারি, ভবিষ্যতে দেখা যাবে আরো বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’ অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটার ও বোলার- সবার জন্যই থাকবে বাড়তি চ্যালেঞ্জ। অধিনায়ক জানালেন, এই চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছে তার দল।

শান্ত বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা বড় সুযোগ, এমন বোলিংয়ের বিপে ভালো করার। আমাদের ব্যাটসম্যানরা অনেক রোমাঞ্চিত এই চ্যালেঞ্জটা নেয়ার জন্য। কত রান বোর্ডে (স্কোরবোর্ডে) দিতে পারব সেদিকে না তাকিয়ে চ্যালেঞ্জটা কত ভালোভাবে সামলাতে পারছি এবং উপভোগ করছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে যে কন্ডিশন, সেখানে অবশ্যই প্রত্যাশা আছে তারা (পেসাররা) ২০ উইকেট নিয়ে দেবে। পাশাপাশি দুইজন ভালো অভিজ্ঞ স্পিনারও আছে, তারা পেস বোলারদের সাহায্য করবে। স্কোয়াডে যেসব পেস বোলার আছে, তারা সম। মুশফিক (হাসান) ছাড়া সবাই অভিজ্ঞ, অনেক বছর ধরে খেলছে। যদি তাদের সেরা বোলিংটা করতে পারে, অবশ্যই ২০ উইকেট নেয়া সম্ভব।’

তবে প্রত্যাশার চাপটাও ভালোভাবেই টের পাচ্ছেন শান্ত। টেস্টে এখন বেশ সমীহ-জাগানিয়া দল আছে বাংলাদেশের, নিয়মিত জয়ও আসছে গত কয়েক বছরে। এই সংস্করণে প্রত্যাশাও বেড়েছে সবার। এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন টেস্ট অধিনায়ক।

তিনি বলেন, ‘একটা ভালো জিনিস যে আমাদের দর্শকেরা প্রতিটা সিরিজে অনেক প্রত্যাশা করে। তারা আশা করে আমরা প্রতিটা ম্যাচ জিতব, এটা একটা ইতিবাচক দিক। ২৩ বছর আগে হয়তো এই জিনিসটা ছিল না। আমি যদি অর্জনের কথা বলি তাহলে এটা একটা ভালো অর্জন যে এখন বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো দলের বিপে জেতার কথা চিন্তা করে।’