গরমে উপকারী ৫ পাতা

Printed Edition

তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই সময় সুস্থ থাকতে খাবার ও পানীয়ের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন সব খাবার রাখা উচিত যা শরীর ঠাণ্ডা করে। গরমে বেশি করে ফল, ফলের রস এবং শাকসবজি খাওয়া উচিত। সেই সাথে পর্যাপ্ত পানি পানও জরুরি।

এ ছাড়া আমাদের চার পাশে এমন পাঁচ ধরনের পাতা আছে যা গ্রীষ্মকালে পেট এবং ত্বক ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে।

পুদিনা পাতা : শীতল প্রভাব থাকার কারণে গ্রীষ্মকালে খাবার ও পানীয়তে ব্যাপকভাবে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা উচিত। গ্রীষ্মকালে পুদিনা পাতা শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে পুদিনার চাটনি বানিয়ে খেতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং সালাদে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। পুদিনা পাতা হজমের জন্য খুবই উপকারী। এটি পেটের উত্তাপ, অ্যাসিডিটি, গ্যাস ও বুকজ্বালা ভাব কমায়। পুদিনা পাতা ত্বক ভালো রাখতেও সাহায্য করে। গরমে ত্বকে পুদিনা পাতার পেস্ট লাগাতে পারেন। এতে ব্রণ এবং র‌্যাশের মতো সমস্যা দূর হবে।

বেলপাতা : বেলের মতো বেল পাতাও খুব উপকারী। সকালে খালি পেটে দুই থেকে তিনটি বেল পাতা চিবিয়ে খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে। এই পাতাগুলো হজমশক্তি বাড়াতে এবং হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করতে কার্যকর। খালি পেটে বেলপাতা চিবানো বা এর রস পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়াও বেলপাতা শুকিয়ে চা বানিয়ে পান করতে পারেন।

ধনেপাতা : গ্রীষ্মকালে ধনেপাতা খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। ধনে পাতার চাটনি বানিয়ে খেতে পারেন। স্মুদিতেও যোগ করতে পারেন। আবার তরকারি রান্নাতেও ধনেপাতা মেশাতে পারেন। চাইলে ধনেপাতার চা-ও পান করতে পারেন। ধনেপাতা খেলে শরীর শুধু ভেতর থেকেই ঠাণ্ডা হয় তা নয়, এটি হজমশক্তি উন্নত করতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, ওজন কমাতে ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে কাজ করে। ধনেপাতা শরীরকে বিষমুক্তও করে, যা ত্বকের জন্যও উপকারী।

লেমনগ্রাস : লেমনগ্রাসের শীতলকারী প্রভাব থাকায় এটি গ্রীষ্মকালে শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখে। লেমনগ্রাস পেটের জন্য খুবই উপকারী। এটি হজমশক্তি উন্নত করে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য শরীরের তাপ, মানসিক চাপ ও পেট ফাঁপা কমায়। চাইলে লেমনগ্রাস পানিতে ফুটিয়ে চা হিসেবে পান করতে পারেন। লেমনগ্রাস চা বা ডিটক্স ওয়াটার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং পেটের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। লেমনগ্রাস চা পান করলে ত্বকে একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসে।

পান : পানপাতা আমাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ। গ্রীষ্মকালে পানপাতা খেলে হজমশক্তি বাড়ে, শরীর ঠাণ্ডা থাকে এবং গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। গরমের দিনে পান পাতার শেক বানিয়ে খেতে পারেন। এটি শরীরকে সতেজ ও ঠাণ্ডা রাখে। পানপাতা ত্বকের জন্যও উপকারী। গ্রীষ্মকালে ঘামের কারণে ত্বকের জ্বালা বা সংক্রমণ হলে পান পাতার পেস্ট লাগালে উপকার মেলে। ইন্টারনেট।