হামে আরো ২ শিশুর মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ১৩৭১
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে। তবে সরকারিভাবে রোগটিতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন এক শিশুকে। যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা ঢাকা বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি ছিল। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ৩২ শিশু সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৭৬ শিশুকে পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তারা হামে আক্রান্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দুই হাজার ৯৭৩ শিশু নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, ১২ হাজার ৩১৮ শিশুকে। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ হাজার ৭৭২ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩২ শিশুর মৃত্যু হলো বলে সরকারিভাবে বলা হয়েছে। হামে মৃত্যু হয়েছে এমন সন্দেহ করা হয়েছে- এমন শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৬। হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি শিশুর এসেছে ঢাকা বিভাগে আট হাজার ২৬৩ শিশু। গতকাল সকাল ৮টা থেকে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিশুর সংখ্যা ছিল ৫০৫। এরপরই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ২৬১ শিশু, চট্টগ্রাম বিভাগে ছিল ১০০, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৭০, সিলেটে ৩০, ময়মনসিংহে ছিল ১ এবং রংপুর বিভাগে হামে আক্রান্ত কোনো শিশু ছিল না ওই ২৪ ঘণ্টায়।
রাজশাহী নগরীতে ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান ক্যাম্পেইন
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এলাকায় আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী মহানগরীতে মোট ৫৪ হাজার ১৪৪ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নগর ভবনের সিটি হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাসিকের প্রশাসক (মেয়রের পদমর্যাদা) মো: মাহফুজুর রহমান রিটন।
সংবাদ সম্মেলনে রাসিক প্রশাসক বলেন, ১৪ কর্মদিবসে রাজশাহী মহানগরীতে কমিউনিটি পর্যায়ে ৪৫ হাজার ৬২৩ জন শিশুকে এবং স্কুলপর্যায়ে আট হাজার ৫২১ জন শিশুসহ মোট ৫৪ হাজার ১৪৪ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নগরীর ২৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও ২৪০টি কমিউনিটি কেন্দ্র এবং ছয়টি স্থায়ী কেন্দ্রে এই টিকাদান কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রতিটি অস্থায়ী কেন্দ্রে দু’জন টিকাদানকারী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবী ও স্থায়ী কেন্দ্রে একজন টিকাদানকারী ও একজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই হাম রোগ প্রতিরোধে প্রায় ৭০ হাজার জনসচেতনতামূলক লিফলেট প্রস্তুত করে বিতরণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই লিফলেট বিতরণ করেছেন।
রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা: মো: হাবিবুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম।
মমেকে আরো ২৫ শিশু ভর্তি
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে।
বুধবার দুপুরে মমেক হাসপাতালের হাম মেডিক্যাল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহা: গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৮২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে আরো ১১ শিশু। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৮১ জন শিশু। তবে উদ্বেগজনকভাবে, এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।