ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাদ মোস্তাফিজ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বের ১১তম এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে স্বীকৃত টি-২০ ক্যারিয়ারে ৪০০ উইকেটের মালিক এবং আইপিএলে বিভিন্ন দলের হয়ে ৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নেয়া পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়া হলো ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইপিএল) থেকে। চেন্নাই সুপার কিংসের সাথে নিলামে লড়াই করে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে
নিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। অথচ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাংলাদেশের বাঁ হাতি এই কাটার মাস্টারকে বাদ দিতে বাধ্য হলো কেকেআর।
গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের নানা অভিযোগকে সামনে এনে ভারতের কয়েকটি রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও ধর্মীয় গুরু মোস্তাফিজের আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তা ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা বিরাজমান। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে ভারতে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে ক্রিকেটাঙ্গনেও। থমকে যায় বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। শেষ পর্যন্ত আলোচনা, সমালোচনা ও চাপের মধ্যেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিলো বিসিসিআই।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া বক্তব্যে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতার খবরের প্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক যেসব ঘটনা ঘটছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিসিসিআই কেকেআরকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলেছে।’
বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এক বিবৃতিতে কেকেআর জানায়, ‘কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করছে যে, আইপিএলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আসন্ন আসরের আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে যথাযথ প্রক্রিয়া ও পরামর্শ মেনে এই কাজটি করা হয়েছে। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী বিসিসিআই কলকাতাকে একজন বদলি খেলোয়াড় নেয়ার অনুমতি দিবে।’
ফেব্রুয়ারিতেই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-২০ বিশ্বকাপের আসর। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের জন্য ভারত সফর করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ‘সামনে টি-২০ বিশ্বকাপ। মোস্তাফিজ ইস্যুর পরে সে ক্ষেত্রে আমাদের ক্রিকেটাররা ভারতে গিয়ে খেললে একটা শঙ্কার জায়গা থেকে যাবে। সে শঙ্কা কিভাবে দ্রুত কাটিয়ে উঠবে, সেটা বিসিবি এবং সরকারের যারা দায়িত্বে রয়েছেন, সুরাহার ব্যাপারটি তাদের ওপর ছেড়ে দিলাম।’
বিপিএল শেষে ২৬ জানুয়ারি ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা লিটন দাসের দলের। ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপের অন্য দলগুলো হলো- ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল, ইংল্যান্ড ও ইতালি। ৮ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে।