বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেয়া হবে না শ্রীমঙ্গলে মামুনুল হক

Printed Edition
3rd-5
খুলনার ডুমুরিয়ায় জনসভায় বক্তৃতা করছেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

বাংলাদেশের মাটিতে আর ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ক্ষমতার স্বাদ পূরণের জন্য এ দেশের মানুষ আর নিজেকে বলি দেবে না। বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ, আর দেশের সম্পদ ভোগ করবে এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে মাঠে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গাজী শেখ নুরে আলম হামিদীর পক্ষে রিকশা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ থেকে সম্পদ পাচার করে বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ গড়তে আর দেয়া হবে না। দেশের ব্যবসায়ীরা সরকারকে ট্যাক্স দেবে, কোনো দুর্বৃত্তকে আর চাঁদা দেবে না। জনগণের অধিকার আদায়ে রাজনীতি করতে চাইলে, দেশের উন্নয়নের জন্য যদি কোনো প্লান থাকে, তা বাস্তবায়ন করার জন্য জনতার কাতারে আসতে হবে। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও সংযত ভাষায় কথা বলতে হবে এবং সবাইকে আস্থায় নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস ও পেশিশক্তির মাধ্যমে ব্যালট ছিনতাই করার দিন শেষ। সেই সময় আর বাংলাদেশে ফিরবে না। হেলমেট বাহিনী বা পেশিশক্তি লেলিয়ে দিয়ে জনগণের অধিকার দমন করা যানে না। বুক পেতে দেয়া হবে আবু সাঈদের মতো, তবু কোনো অন্যায় বা পেশিশক্তির কাছে মাথা নত করা হবে না।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা জুলাই সনদের বিরোধিতা করবে, যারা জনগণের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, যারা জুলাই সনদে না এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করবে, তারা সারা বাংলাদেশের দুশমন। স্বাধিনতার দুষমন, জুলাই বিপ্লবের দুশমন।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন দেশের মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। এ দেশের মানুষকে যারা বঞ্চিত করেছেন বা করতে চাইবে, জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে ইনশাআল্লাহ। ভোটারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট দেবেন ব্যালটে পাহাড়াদারি করবেন কেন্দ্র কেন্দ্রে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রকারী আপনাদের ভোট ছিনতাই করতে না পারে। সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মামুনুল হক আরো বলেন, এই ঐক্য কোনো ব্যক্তি, নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় নেয়ার জন্য নয়, বরং বাংলার ১৮ কোটি মানুষের ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। লুটপাট, গুণ্ডামি ও পেশিশক্তির রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতেই এই ঐক্য গড়ে উঠেছে। জনগণের অধিকার নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিনের শোষণ, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে যে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, তা সহজে আসেনি। দের সহশ্রাধিকের বেশি মায়ের বুক খালি হয়েছে, সেইসব শহীদের রক্ত ও ৩০ হাজারের বেশি আহত ছেলেমেয়েদের ত্যাগের বিনিময়ে এই পরিবর্তন এসেছে। সেই শহীদ ও আহতদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে সন্তানহারা বাবার চোখের পানি শুকায় নাই, আর্তনাদ থেমে যায় নাই, শহীদদের রক্তের দাগ মুছে যায় নাই, আজ সেই শহীদদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করার নীলনকশা করা হচ্ছে। তাই শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্যে, ৩০ হাজার আহত-পঙ্গুত্ব বরণকরা জুলাই যোদ্ধার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমরা ১১টি দল হাতে হাত রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে মানুষের অভিপ্রায়, আকাক্সক্ষা তীব্র হয়েছে। পুরনো বন্দোবস্তুর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি নতুন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল। ’৭১-এর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় সোয়া দুই শ’ বছর বাংলার মানুষকে শাসন করেছে বিদেশী শাসকরা। স্বাধীনতার পর মানুষ মনে করেছিল শোষণ করা হবে না, লোটপাট হবে না; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ৭২ থেকে ২৪ পর্যন্ত ৫২ বছর বাংলাদেশের মানুষের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। স্বপ্ন পূরণ না করে কারা বাংলাদেশের মানুষকে সারা বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান বানিয়ে বাংলার মানুষকে অপমান করেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মুফতি হাবিবুর রহমান কাসিমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তব্য দেন বরুণা মাদরাসার ছদরে মুহতামিম সাইদুর রহমান বর্ণভী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক মিয়াজি, মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী আহমদ বিলাল, খেলাফত মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মাওলানা আয়েত আলীসহ স্থানীয় নেতারা।