প্রযুক্তিনির্ভর ধানচাষে বদলেছে চকনজু গ্রামের চিত্র

Printed Edition

সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

মাঠজুড়ে দুলছে সোনালি ধান। কোথাও চলছে কাটা, কোথাও মাড়াই। তবে ময়মনসিংহের চকনজু গ্রামের এই দৃশ্য গতানুগতিক কৃষির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। এখানে কৃষকরা কেবল শ্রমিক নন, বরং গবেষকদের মতো মাঠের ফলন দেখে নিজেরাই বেছে নিচ্ছেন ধানের জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্যোগে চকনজু এখন হয়ে উঠেছে একটি আদর্শ ‘প্রযুক্তি গ্রাম’।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের এই গ্রামে ২০২৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে ‘স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’ (এলএসটিডি) প্রকল্প। চলতি বোরো মৌসুমে ১৩৭ জন কৃষকের ৪৫ একর জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। মাঠের একটি অংশে গড়ে তোলা হয়েছে ‘রাইস গার্ডেন’, যেখানে ব্রি উদ্ভাবিত ৬১টি জাতের ধান সারিবদ্ধভাবে চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা এই প্রদর্শনী দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আগামী মৌসুমে তারা কোনো জাতটি চাষ করবেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কৃষক জমশেদ আলী বলেন, আগে তিন-সাড়ে তিন মণ ধান পেতাম, এখন আধুনিক জাত ও প্রযুক্তিতে ফলন হচ্ছে পাঁচ মণের বেশি। আরেক কৃষক নূরুল ইসলাম জানান, এবার তিনি ‘ব্রি হাইব্রিড-১০৮’ চাষ করেছেন। মেশিনে চারা রোপণ থেকে শুরু করে সুষম সারের ব্যবহার হচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে। শ্রমিক সঙ্কট মোকাবেলায় এখানে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।

গত রোববার এই গ্রামে এক মাঠ দিবস ও ফসল কাটা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি বলেন, কৃষি আধুনিকায়নের সুফল এখন প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায়। ব্রির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের উপপরিচালক আফছানা আনছারী জানান, চকনজুকে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে বিজ্ঞানী ও কৃষকের সরাসরি যোগাযোগের ফলে যেকোনো সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান মিলছে। আগে নতুন জাতের বীজের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো। এখন গ্রামের পাশেই ব্রির স্যাটেলাইট স্টেশন হওয়ায় দ্রুত বীজ ও পরামর্শ পাচ্ছেন চাষিরা।