জিম্বাবুয়ের সাথেও চোট সমস্যা অস্ট্রেলিয়ার
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
একের পর এক ইনজুরিতে অনেকটাই বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই সঙ্কট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে জয়ের মাধ্যমে শুরু করেছে তারা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে মাঠের বাইরের সব আলোচনা যেন চাপা পড়ে গেছে। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসে নাথান এলিস ছিলেন দুর্দান্ত, আর ব্যাটিং লাইনআপও ছিল পরিমিত। তবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য চিন্তার জায়গা এখনো আছে। অধিনায়ক মিচেল মার্শ টেস্টিকুলার ইনজুরিতে অনিশ্চিত, ফলে দল নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এবার কলম্বোয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পেলে সুপার এইটের পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে অসিরা।
অন্য দিকে দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফিরে দারুণভাবে নিজেদের জানান দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ওমানের বিরুদ্ধে হারলেও উদ্বোধনী ম্যাচে সেই ওমানকে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে তারা। তরুণ ব্যাটার ব্রায়ান বেনেট ৩৬ বলে ৪৮ রানের ঝড় তুলে প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন।
জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণও বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে মুজারাবানি পাওয়ারপ্লেতে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারের জন্য বড় হুমকি হতে পারেন। যদিও স্পিন বিভাগে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলার মতো ধারালো অস্ত্র তাদের নেই। জিম্বাবুয়ের জন্য বড় দুঃসংবাদ হতে পারে অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলরের ইনজুরি, তিনি খেলতে না পারলে বদলি হিসেবে আসবেন ক্লাইভ মাদান্দে।
এ দিকে অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে অ্যাডাম জামপা। উইকেট নেয়া তার দক্ষতা চোখে পড়ার মতো। নজর থাকবে ক্যামেরন গ্রিনের দিকে। শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না তিনি।
তবে জিম্বাবুয়েকে হালকা ভাবে নিতে নারাজ আত্মবিশ্বাসী ট্রাভিস হেড। তিনি বলেন, ‘টুর্নমেন্টের শুরুটা আমরা ভালোভাবে করতে পেরেছি। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে জিম্বাবুয়ে এমন একটি দল যারা যেকোনো সময় চমকে দিতে পারে। আমরা কাউকে হালকাভাবে নিচ্ছি না। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই’। দলের চোট নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন হেড।
অন্যদিকে লড়াইয়ে প্রস্তুত জানিয়ে সিকান্দার রাজা বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ কিছু। আমরা কাউকে ভয় পাইনা। এখানে খেলতে এসেছি। ইতিহাসও আমাদের কথা বলে। আমরা পারি। তবে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা। আমাদের লক্ষ্য হলো নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেয়া।
আর্থিকভাবে জিম্বাবুয়ের সাথে খেলা লাভজনক না হওয়ায় দুই দলের লড়াই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুবই বিরল। সর্বশেষ তারা মুখোমুখি হয়েছিল ২০২২ সালের ওয়ানডে সিরিজে। তবে টি-২০ বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় ২০০৭ সালে জিম্বাবুয়ে পাল্লাই ভারী। লো স্কোরিং ম্যাচে সেবার অসিদের পরাজয়ের স্বাধ দিয়েছিল ব্রেন্ডন টেলররা। যা এখনো তাদের গর্বের স্মৃতি।
সার্বিক বিশ্লেষণে অসিরা এগিয়ে থাকলেও অঘটন ঘটন প্রিয়াসী জিম্বাবুয়ে যে বড় স্বপ্ন দেখছে তা বলাই যায়।