নীলফামারীতে তামাকের আবাদ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে

Printed Edition

নীলফামারী প্রতিনিধি

‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ সতর্কবার্তাটি নীলফামারীর মাঠপর্যায়ের অনেক তামাকচাষির কাছে কার্যত গুরুত্ব হারাচ্ছে। বিড়ি ও সিগারেট কোম্পানিগুলোর আগাম অর্থসহ নানা সুবিধা এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি মুনাফার আশায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। এতে নীলফামারীতে তামাকের আবাদ দিন দিন বাড়ছে।

নীলফামারী জেলা তামাক চাষের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলার বড় বড় হাটবাজারে স্থাপিত বিড়ি-সিগারেট কোম্পানির অফিসগুলো থেকে কৃষকদের আগাম অর্থ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ ও কারিগরি সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, তুলনামূলক কম সেচ ও পরিচর্যায় তামাকের ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং রোগবালাইয়ের ঝামেলাও কম। এসব কারণে তামাক চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় এক হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি জমিতে তামাক চাষ হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, বোরো ধান, ভুট্টা ও গম চাষে সেচ, সার ও কীটনাশকের খরচ বেশি হওয়ায় লাভ কমে যাচ্ছে। নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বামনা বামনী গ্রামের মহুবার রহমান, টুপামারী ইউনিয়নের বাজার মৌজা গ্রামের আমিনুর রহমান এবং জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের কৃষক সামছুল ইসলাম ও সাব্বির হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বোরো ধান চাষে তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাই ধানের জমিতে তামাক চাষ শুরু করেছেন। তাদের ভাষ্য, তামাক বিক্রিতে তেমন ঝামেলা নেই; কোম্পানির লোকজন বাড়িতে এসে পাতা কিনে নেয়।

এমনকি তামাকের মুড়াও (মূল) বিক্রি করেও বাড়তি আয় পাওয়া যায়।

কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ এই সতর্কবার্তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে তাদের সাথে কেউ কার্যকরভাবে কথা বলেননি।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, তামাকের পরিবর্তে অন্যান্য লাভজনক ও স্বাস্থ্যসম্মত ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তবে নানা বাস্তবতার কারণে এখনো জেলায় তামাক চাষ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।