রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার সাক্ষীদের সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
মিয়ানমারের রাখাইনের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) সাক্ষ্য দেয়ার জন্য নির্বাচিত তিনজন রোহিঙ্গার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং।
নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার শুনানি গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। এবার একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত হিসেবে আইসিজে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তিনদিন বরাদ্দ রেখেছে। তবে এই সাক্ষ্যগ্রহণ হবে গোপনে, যাতে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের প্রবেশাধিকার থাকবে না।
এই মামলার রায় ভবিষ্যতের গণহত্যা মামলাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, গাম্বিয়া ও মামলায় হস্তক্ষেপকারী (ইন্টারভেনশন) দেশ কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ব্রিটেন যুক্তি দিয়েছে, গণহত্যার উদ্দেশ্য নির্ধারণে শুধু নিহতের সংখ্যা নয়, বরং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার দিকেও নজর দিতে।
কানাডার হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে, গাম্বিয়ার দায়ের করা ঐতিহাসিক গণহত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিন রোহিঙ্গার সাথে আলোচনা করেছেন অজিত সিং। তিনি মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের নির্যাতন, সহিংসতা এবং ন্যায়বিচারের সংগ্রাম নিয়ে কথা বলেন এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্বারোপ করেন।
হাইকমিশনার অজিত সিং সাক্ষ্য দেয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের অসীম সাহসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা এবং অপরাধীদের দীর্ঘমেয়াদি জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় কানাডা তার সমর্থনে সবসময় অবিচল রয়েছে। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত গঠনেও কানাডা কাজ করে যাবে।
রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা আইসিজে মামলায় ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে কানাডার নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা তাদের হারানো অধিকার ও ন্যায়বিচার ফিরে পাবে।