সাভারে এনসিপির সভাস্থলে বিস্ফোরণ
যুবলীগের দুই নেতা আটক
Printed Edition
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা শেষে পথসভা চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক দুইজনকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন নুরুল ইসলাম (৫২), তিনি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার জয়মন্টপ ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একই ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাভারের আনন্দপুরের সজিব (৩২)। তিনি সাভার পৌর যুবলীগ নেতা। আটককৃতদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ এবং তাদের দলীয় পরিচয় নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার (এসআই) মো: সাখাওয়াত ইমতিয়াজ। এর আগে সোমবার রাত ২টার সময় সাভারের আনন্দপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার পৌর এলাকার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন থানা রোডের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে শাহীন খন্দকার (৩০), মো: জসিম (২৬), শাহাদাত হোসেন (৪০) ডিবিসি নিউজের ক্যামরাম্যান মো: মজনু (৪৫), এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টার মো: সাইফুল ইসলামসহ (২৫) পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি একটি মামলা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এবং এজহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার সময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্যসচিব আক্তার হোসেন এমপি ও সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে পদযাত্রা শেষে মঞ্চে উঠার ৫-১০ মি. পূর্বে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে যায়। এ সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দেয়া অবস্থায় মঞ্চ থেকে সামান্য দূরত্বে বিকট শব্দে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি এ হামলার জন্য প্রশাসনকে দায়ী তিনি বলেন, এই ককটেল বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল? আমাদের খুন করার পরিকল্পনায় এখানে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। পরে নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদের নিয়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি মুক্তির মোড় হয়ে সাভার মডেল থানার মূল ফটকে অবস্থান নেয়। এরপর নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকের আশ^াস দেয়া হয়। পরে রাতে থানার ভেতরে প্রেস ব্রিফিং-এ পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কিভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে?
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন। ভয়ভীতি, বোমাবাজি সব কিছু উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে। ওই দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে সাভারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। তিনি বলেন, সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পথসভা চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে। তিনি আরো বলেন, কী কারণে পথসভার আগ মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মানুষ ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র চায় : নাহিদ ইসলাম
সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, দেশের মানুষ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার তাললতা চত্বরে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পথযাত্রা’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের অধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জাতীয় নাগরিক পার্টি কাজ করে যাচ্ছে এবং গণমানুষকে সাথে নিয়েই এগিয়ে যাবে।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক সারজিস আলম। তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজকে নেতৃত্বে এনে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এনসিপি রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে শুরু হওয়া ‘জুলাই পথযাত্রা’ তাললতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।
পথসভা শেষে নেতৃবৃন্দ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেন।