গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ৪ দিনের কর্মসূচি

দেশব্যাপী আন্দোলনে নামছে ১১ দল

Printed Edition
back-5
মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মামুনুল হক : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।

গতকাল রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি ও গণসংযোগ পালিত হবে। এ ছাড়া ১১ এপ্রিল দেশের সব মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ১৩ এপ্রিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

মামুনুল হক আরো বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নানা রকম ছলছাতুরী করছে। তারা সুস্পষ্টত ৭০ ভাগ মানুষের ম্যান্ডেটকে অপমান করেছে। মানুষ অনেক আশা নিয়ে জুলাই আন্দোলন করেছে। মানুষ দেশের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সংস্কার চায়। কিন্তু বিএনপি আবারো ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বিরোধী দল চুপ থাকতে পারে না। ফ্যাসিবাদের এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা রুখে দিব। আমরা গণভোটের রায় যেভাবে হোক কার্যকর করব। আমরা এই দাবির পক্ষে অব্যাহত কর্মসূচি পালন করে যাবো।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সঙ্কট নিরসনের দাবিতে বৈঠক করেন নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী, তারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সব বৈঠকে অংশ নিয়েছে। কিন্তু এখন তারা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে যা দুর্ভাগ্যজনক। এ ঘটনায় আমরা হতবাক ও বিস্মিত। বিএনপি বিভিন্ন বিষয়ে যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে পাঁচ কোটি মানুষ ভোট দিয়ে সেসব নোট অব ডিসেন্ট খারিজ করে দিয়েছে। অথচ গণভোট নিয়ে একজন ব্যক্তি নিজের মত ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিএনপি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। তাদেরই এখন এটির সমাধান করতে হবে। সে সময় এখনো আছে। তারা এখনো সংবিধান পরিষদের শপথ নিয়ে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারে।

তিনি বলেন, যদি সংসদে সমাধান সম্ভব, সেটি তারা যদি রাজপথে ঠেলে দেয় তাহলে যেই জনগণ গণভোটে অংশ নিয়ে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সেই জনগণকে সাথে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

দেড় মাস না যেতেই সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতার জোরে জাতিকে বুড়াআঙুল দেখাচ্ছে। তারা এখন আওয়ামী লীগের সুরে কথা বলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১১ দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাচ্ছে না। এ সময় তিনি জ্বালানি সঙ্কট, পেট্রলপাম্পে লম্বা লাইন, দুর্নীতি, হামে শিশুদের মৃত্যু, কৃষিতে সেচসঙ্কট, দ্রব্যমূল্যসহ বিভিন্নœ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করায় রাতে এক নারীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান। এ ছাড়া কর্নেল (অব:) অলি আহমেদকে হেয়প্রতিপন্ন করা, রাজাকার অপবাদ দেয়ার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারি, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চাঁন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমদ, এনসিপির আদিবুর রহমান আদিব, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।