বেলিংহ্যাম ছুঁয়েছেন পেলে ও ম্যারাডোনাকে

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে

পুরো ক্যারিয়ার ইংলিশ জাতীয় দলের হয়ে গোল ১২টি। এর মধ্যে এবারের বিশ্বকাপেই করেছেন ছয় গোল। এই হাফ ডজন গোলের চারটিই আবার পরপর দুই ম্যাচে। মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর নরওয়ের বিপক্ষে ফের দুইবার বল জালে পাঠানো। একজন মিডফিল্ডার হয়েও ছয় গোল দিয়ে রয়েছেন গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়ে। কারণ তার চেয়ে মাত্র দুই গোল (৮) বেশি দিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

১৯৬৬ সালের পর আর শিরোপা জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। এমনকি আর ফাইনালেও খেলা হয়নি। সেই ইংলিশরা এবার স্বপ্ন দেখছে আবার বিশ্বকাপে হাত ছোঁয়ানোর। আর সেই মিশনে দলটির আক্রমণভাগের দুই ভরসা হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহাম। দুইজনই সমান তালে গোল করে যাচ্ছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে হ্যারি কেন দু’টি এবং বেলিংহাম একটি গোল করেন। এই জুটি এবারের বিশ্বকাপে শুধু ঘানার বিপক্ষেই দলকে জেতাতে পারেননি। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে দলের ২-০ গোলের জয়ে একটি করে গোল তাদের।

সেরা ৩২-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বেলিংহাম গোল না পেলেও হ্যারি কেন দ্ইুবার জালের দেখা পান। সেরা ১৬-এর ম্যাচে মেক্সিকোর মাঠে মেক্সিকানদের শুরুতেই পেছনে ঠেলে দেন এই বেলিংহাম। ৩৬ ও ৩৮ মিনেটে তার দুই গেল। হ্যারি কেন অবশ্য পেনাল্টিতে একটি গোল করেন। আর নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে উদ্ধারের পরো দায়িত্বই নেন এই বেলিংহাম। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সমতা আনার পর ৯০ মিনেট শেষে অতিরিক্ত সময়ের গোলে দলকে জয় এনে দেন।

বেলিংহামের সিনিয়র ইংল্যান্ড জাতীয় দলে গোলের শুরুটাই হয়েছিল বিশ্বকাপ দিয়ে। তা ২০২২ সালে। কাতারের মাঠে ইরানের বিপক্ষে তার প্রথম গোল। আর এই গোলের মাধ্যমে একটি রেকর্ডেরও মালিক তিনি। কাতার বিশ্বকাপে একুশ শতকে জন্ম নিয়ে গোল করা প্রথম ফুটবলার ছিলেন তিনি। একই সাথে মাইকেল ওয়েনের পর দ্বিতীয় কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে গোল করেন বিশ্ব ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসরে। এ ছাড়া সেনেগালের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে জর্ডান হ্যান্টারসনের গোলের জোগানদাতা।

এবারের বিশ্বকাপে আরেকটি রেকর্ডেরও মালিক এই বেলিংহাম। ২৩ বছর ছয় দিনে ১০ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলা প্রথম ফুটবলার তিনি। ভেঙে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার মারিও ক্যাম্পেসের আগের রেকর্ড।

মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। আবার নরওয়ের বিপক্ষেও দুই গোল দিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন। নকআউট পর্বের পরপর দুই ম্যাচে জোড়া গোল দিয়ে বেলিংহাম পাশে চলে এসেছেন পেলে এবং ম্যারাডোনার। উল্লেখ্য, হাঙ্গেরির সেন্ডর ককসিচ এবং ব্রাজিলের গ্যারিঞ্চাও বিশ্বকাপের নকআউটে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করা ফুটবলার। ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে টানা নকআউটের দুই ম্যাচে জোড়া গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার। এখন বেলিংহামের অবস্থান পেলের পরেই। অর্থাৎ দ্বিতীয় কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে তার এই কৃতিত্ব অর্জন।