হরমুজ প্রণালী পার হলো মালয়েশীয় জাহাজ
Printed Edition
আলজাজিরা
ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রথম মালয়েশীয় তেলের ট্যাংকার জাহাজটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস গতকাল মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি যুদ্ধের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ থাকলেও মালয়েশিয়ার জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে তেহরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে ইরানি দূতাবাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেছে, ‘আমরা বলেছিলাম ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার বন্ধুদের ভুলে যায়নি; প্রথম মালয়েশিয়ান জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে গেছে।’ এই বার্তার মাধ্যমে ইরান সঙ্কটের সময়েও মিত্র দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
মালয়েশিয়ার জাহাজটিকে এই বিশেষ সুযোগ দেয়া হলেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে আত্মসমর্পণ না করে, তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ইরান আত্মসমর্পণ না করলে তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না; মূলত কিছুই থাকবে না।’ ট্রাম্পের এই চরমপত্র মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সঙ্ঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে দেয়া ‘বন্ধুত্বের’ এই বার্তা মূলত গত মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফসল বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে যখন বেশির ভাগ দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বা বাধা রয়েছে, তখন মালয়েশিয়ার একটি ট্যাংকার জাহাজকে নিরাপদে যেতে দেয়া ইরানের একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা কেবল শত্রুতা নয়, বরং মিত্রদের সহযোগিতাতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।