সাবেক কৃষিসচিব আনোয়ার ফারুক

প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্টের রূপরেখা বাজেটে দেখছি না

কাওসার আজম
Printed Edition
artho 2
সাবেক কৃষিসচিব আনোয়ার ফারুক

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ট্রেডিশনাল বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন সাবেক কৃষিসচিব আনোয়ার ফারুক। তিনি বলেন, ট্রেডিশনালি গত ৪০ বছর যেভাবে বাজেট হয়ে আসছে, একই ধারার বাজেট হয়েছে। নতুনত্ব নাই। প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্টর রূপরেখা বাজেটে দেখছি না। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাইভেট সেক্টরের কোনো উন্নয়ন হবে না। যা আছে তাই থাকবে বলে মন্তব্য করেন আনোয়ার ফারুক। কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য খাত নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন সাবেক এই সচিব। দীর্ঘ দিন কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উইংয়ে কাজ শেষে আনোয়ার ফারুক কিছু দিনের জন্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সীড অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

আনোয়ার ফারুক বলেন, আমরা সংস্কারের কথা বলছি, কৃষি খাতের এই বাজেটে সংস্কারের কিছু দেখা যাচ্ছে না। ট্রেডিশনাল যে বাজেট, সেটাই থেকেছে। স্টেকহোল্ডারদের মতামত নাই, স্টেকহোল্ডাররা কী চায় সেটা নাই। যেমন কৃষিখাতে গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। এটাতে না বাড়লেও কিছু আসে যায় না। কারণ, এই যে ব্যয় হবে, সব তো সরকারি প্রজেক্টের পেছনে।

তিনি বলেন, সরকারই বলে যে, কৃষির ৯০ শতাংশই প্রাইভেট সেক্টর (বেসরকারি) করছে। কিন্তু প্রাইভেট সেক্টরের জন্য বাজেটে কী সুবিধা রাখা হয়েছে? প্রাইভেট সেক্টরের জন্য ফিউচার ইনভেস্টমেন্টের জন্য কী রাখা হয়েছে? সেই ধরনের দিক-নির্দেশনা বাজেটে নাই।

কৃষি খাতটা এখন প্রাইভেট সেক্টর ডোমেনেট করছে উল্লেখ করে আনোয়ার ফারুক বলেন, কৃষিতে ৮০-৯০ শতাংশই প্রাইভেট সেক্টর কাজ করে। সেখানে প্রাইভেট সেক্টরকে আরো শক্তিশালী করা দরকার। জলবায়ু সহিষ্ণু যে ভ্যারাইটিজ যে করবেন, শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান কেন? প্রাইভেট সেক্টর কাজ করছে, তাদের নিয়ে করেন। পাবলিক-প্রাইভেটে গবেষণা হোক, প্রাইভেট খাতকে গবেষণার কাজ করায় সুযোগ রাখা হোক। প্রাইভেট খাতের বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হোক। তারা চায় সুযোগ-সুবিধা, তারা অল্প সুদে বা বিনা সুদে লোন চায়। যাতে করে বিনিয়োগ করে আউটপুট আনতে পারে।

তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা প্রাইভেট সেক্টরকে না দিয়ে ড্যামকে (কৃষি বিপণন অধিদফতর) দিচ্ছেন; ড্যামকে ১০০টা কোল্ডস্টোরেজ দিবেন, সরকারি কোল্ডস্টোরেজ কোনো দিনও চলবে না। সরকার কোনো দিনও চালাইতে পারে নাই। সরকারকে দিয়ে ব্যবসা হবে না; ব্যবসা করবে প্রাইভেট সেক্টর। প্রাইভেট সেক্টরের জন্য এনভায়রনমেন্ট করবেন, সেটা করছে না সরকার। এটা না করে সরকারের লোকজন নিয়োগ করছেন, এমপ্লয়ম্টে বাড়াচ্ছেন। সেটা দিয়ে তো এই (কৃষি) সেক্টরের উন্নত হয় না। আমি মনে করি ট্রেডিশনালি গত ৪০ বছর বাজেট হয়ে আসছে, একই ধারার বাজেট হয়েছে। নতুনত্ব নাই। আমি মনে করি, যেহেতু প্রাইভেট সেক্টর মাঠে সক্রিয়, প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্টর রূপরেখা বাজেটে দেখছি না। আমি মনে করি, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাইভেট সেক্টরের কোনো উন্নয়ন হবে না। যা আছে তাই থাকবে।