আড়াইহাজারে ছাত্রদল নেতার বাবার বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, গ্রেফতার ৫
Printed Edition
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও আড়াইহাজার সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক ছাত্রদল নেতার পৈতৃক বাড়ি থেকে থানার লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। এ সময় গ্রেফতার করা হয়েছে পঁাঁচজনকে।
গতকাল শুক্রবার ভোরে উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয় বলে জানান জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম। কালাপাহাড়িয়ার কদমীরচর এলাকার কাশেম আলীর পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির দুইজন নেতা বলেন, কাশেম আলী আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোবারক হোসেনের বাবা। মোবারক নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে এক সংসদ সদস্য প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী।
অভিযান শেষে বিকেলে খালিয়ার চর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল যোবায়ের আলম বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধ কমানো এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৪০ জন সেনা ও ১০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন বলেও জানান তিনি।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ার চরের এরশাদের ছেলে মো: জাকির (৩০), একই এলাকার কানাই মিয়ার ছেলে মো: জনি (১৯), মৃত হযরত আলীর ছেলে মো: স্বপন (৪০), শামসুল হক ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫) এবং শুকুর আলীর ছেলে রিন্টু মিয়া (৫১)।
অভিযানে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি এবং ৫ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও আটটি ককটেল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র, চায়নিজ কুড়াল, ইলেকট্রিক শটগান, মাদক জব্দ করা হয়েছে। একইসাথে দশ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল যুবায়ের আলম।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কালাপাহাড়িয়া এলাকাটি চতুর্পাশ থেকে নদী দিয়ে বেষ্টিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন একটি সংবেদনশীল এবং অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল শনাক্তকরণ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এ এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও থানা থেকে লুট করা অস্ত্রও রয়েছে বলে জানা যায়। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযান শুরু হয় এবং যৌথবাহিনীর ১৫০ জন সদস্য এলাকার বহির্গমন পথ, নদীপথ ও বসতবাড়ি এলাকায় পৃথকভাবে ঘিরে রাখে। পরে সন্দেহভাজন স্থানে তল্লাশি, গোপন আস্তানা শনাক্তকরণ ও এলাকাভিত্তিক টহল জোরদার করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।