হংকংয়ের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে টেনে আনতে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।
এতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তি, সবুজ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল, জুতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বুধবার হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে হংকং জেনারেল চেম্বার অব কমার্সের (এইচকেজিসিসি) চেয়ারম্যান ড. জ্যাকব কাম-এর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিদেশী বিনিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলসহ (সিইআইজেড) বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে), শুল্কমুক্ত সুবিধায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস। এর ফলে বিদেশী উদ্যোক্তারা এখানে সহজেই নতুন ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে পারবেন বলে তিনি জানান।
অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ‘বাংলাদেশ তহবিল’-এ হংকংয়ের পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের অংশ নেয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
একইসাথে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, তাজা ফল, পাটজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য রফতানি বাড়াতে হংকংয়ের বাজারকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেয়া হয়।
ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে এফবিসিসিআই, এমসিসিআই ও ডিসিসিআইয়ের সাথে হংকংয়ের ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। সেইসাথে ২০২৭ সালের শুরুতে হংকংয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান মন্ত্রী।
এর আগে, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান, কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদ এবং ‘ইনভেস্ট হংকং’-এর মহাপরিচালক আলফা লাউয়ের সাথে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে হংকংয়ে বাংলাদেশের ট্রেড কমিশন চালুর মাধ্যমে উভয়পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয়। আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশ-হংকং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বাসস