আত্রাইয়ে ভেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির টপসয়েল

Printed Edition
bangla-3
আত্রাইয়ে ভেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির টপসয়েল

আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের জগদাশ এলাকায় ফসলি জমি থেকে রাতের বেলা ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জগদাশ শিকারপুর বিলে ফসলি জমি থেকে প্রায় ২০-২৪ ফুট গভীর করে টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে। এসব মাটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। মাটি পরিবহনে অনুমোদনবিহীন মাহিন্দ্রা ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক চলাচল করায় গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কে মাটি পড়ে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে। অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে ধুলাবালিতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে এবং বৃষ্টির সময় সড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নগদ অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমির মালিকদের কাছ থেকে কম দামে ফসলি জমির মাটি কিনে নেয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল থাকায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এতে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জমির মালিক মিল্টন মুঠোফোনে বলেন, নিজেদের প্রয়োজনে পুকুর খননের জন্য মাটি কাটা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় ইটভাটার জন্য পরিকল্পিতভাবে কৃষিজমির টপ সয়েল তুলে নেয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, টপ সয়েল মাটির সবচেয়ে উর্বর স্তর, যা ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ স্তর কেটে ফেললে জমির বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং তা পুনরুদ্ধারে অন্তত তিন বছর সময় লাগে। কৃষকদের টপ সয়েল না কাটতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিক জানান, তথ্য পেয়ে ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আলাউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে অবৈধ প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।