পানামাকে হারিয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল ক্রোয়েশিয়া

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

নকআউটের আশা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা আন্তে বুদিমিরের একমাত্র গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারায়। এ হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ইউরোপে দল পানামার। আর জয়ে ক্রোয়েশিয়া শেষ ম্যাচের আগে নিজেদের নকআউট সম্ভাবনা জীবিত রাখল।

ম্যাচের শুরু থেকে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেললেও ক্রোয়েশিয়া বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল। তবে প্রথমার্ধে তারা পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি। পানামাও নিজেদের সীমিত সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে এবং রক্ষণে সংগঠিত থেকে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখে।

বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। কোচের সিদ্ধান্তে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আন্তে বুদিমির এবং অল্পসময়ের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন তিনি। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ডান দিকের আক্রমণ থেকে আসে নির্ণায়ক গোলটি।

জোসিপ স্তানিসিচ ও মার্কো পাসালিচর সমন্বিত আক্রমণে ডান প্রান্ত ভেঙে যায়। এরপর স্তানিসিচ ছয় গজ বক্সের সামনে নিখুঁত একটি ক্রস তুলে দেন। পানামার গোলরক্ষক অরলান্ডো মস্কেরা বল আটকানোর জন্য বেরিয়ে এলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। সেই সুযোগে পেছনের পোস্টে থাকা বুদিমির শান্তভাবে বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল বুদিমিরের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম গোল এবং জাতীয় দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তার পঞ্চম গোল। গোলের পর ম্যাচের গতি হঠাৎ বেড়ে যায় এবং দুই দলই আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। গোলের মাত্র ৩ মিনিট পর ক্রোয়েশিয়া ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পায়। অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ নিজের অর্ধ থেকে দুর্দান্ত পাসে পাসালিচকে একা এগিয়ে দেন। কিন্তু পানামার গোলরক্ষক মস্কেরা সময়মতো বেরিয়ে এসে প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বল থেকেও পাসালিচ লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

এরপর পানামা দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তারা টানা কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তোলে এবং ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দোমিনিক লিভাকোভিচকে ব্যস্ত রাখে। এক মিনিটের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল কর্নার থেকে কার্লোস হার্ভির হেড দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেয়া।

দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি পানিবিরতির পর ম্যাচের ছন্দ কিছুটা বদলে যায়। পানামা আগের মতো চাপ ধরে রাখতে পারেনি এবং ক্রোয়েশিয়া অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে শেষ সময়গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এল’-এ ক্রোয়েশিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। একই দিনে ইংল্যান্ড ও ঘানার ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ায় দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৪। ফলে শেষ ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে জয় পেলেই ক্রোয়েশিয়া শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থেকে পরবর্তী পর্ব নিশ্চিত করতে পারবে। অন্য দিকে পানামা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনো প্রথম পয়েন্টের অপেক্ষায় রয়ে গেল। নিজেদের প্রথম পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচেই তারা পরাজিত হয়েছে। এখন শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা শুধু সম্মান রক্ষার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।