ঝুঁকি নিতেই হবে কুরাসাওকে
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
বৃহস্পতিবার ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে রাত ২টায় মুখোমুখি হবে কুরাসাও ও আইভরি কোস্ট। দুই দলের সামনে সমীকরণ ভিন্ন হলেও লক্ষ্য এক, নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করা। কুরাসাওয়ের জন্য এটি বাঁচা-মরার ম্যাচ, আর আইভরি কোস্টের জন্য নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলে কাক্সিক্ষত ফল তুলে নেয়ার সুযোগ।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট জনসংখ্যার দেশগুলোর একটি হিসেবে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়াই কুরাসাওয়ের জন্য বড় অর্জন। কিন্তু এখন তারা আরো বড় ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে। গ্রুপে ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা দলটির সামনে সমীকরণ পরিষ্কার, আইভরি কোস্টকে হারাতে হবে এবং এরপর অপেক্ষা করতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর ফলের ওপর, যাতে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের সাথে গোলশূন্য ড্র করে কুরাসাও নিজেদের লড়াই করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। কোচ ডিক অ্যাডভোকাট সম্ভবত এবারো রক্ষণভিত্তিক কৌশলেই এগোবেন। পাঁচজনের রক্ষণ, মাঝমাঠে ঘন অবস্থান এবং সুযোগ পেলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ- এটিই হতে পারে তাদের পরিকল্পনা। সামনে জুর্গেন লোকাডিয়া ও তাহিথ চংয়ের ওপর থাকবে আক্রমণের দায়িত্ব।
তবে কুরাসাওয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ড্র তাদের কোনো কাজে আসবে না। ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে তাদের ঝুঁকি নিতেই হবে, আর সেখানেই প্রতিপক্ষের মানের পার্থক্য বড় হয়ে উঠতে পারে। অন্য দিকে আইভরি কোস্ট তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে। তাদের পয়েন্ট ৩ এবং একটি ড্র পেলেই গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত হতে পারে। কোচ এমার্স ফায়ে অযথা ঝুঁকি নেয়ার বদলে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলাতে চাইবেন। যদিও কিছু চোট সমস্যা রয়েছে, তবুও দলটির আক্রমণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী।
উইংয়ে আমাদ দিয়ালো ও ইয়ান দিয়োমান্দে গতি ও সৃজনশীলতা এনে দিচ্ছেন, আর মাঝমাঠে ফ্র্যাঙ্ক কেসিয়ে ও সাঙ্গারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। আইভরি কোস্টের পরিকল্পনা হতে পারে বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্যের সাথে কুরাসাওয়ের রক্ষণ ভাগ।