প্রিভিউ কর্নার
নিখুঁত জার্মানদের সামনে ইকুয়েডরের শেষ সুযোগ
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
শেষ রাউন্ডের ম্যাচে বৃহস্পতিবার রাত ২টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে জার্মানি ও ইকুয়েডর। দুই দলের লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। জার্মানি ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইকুয়েডরের সামনে এটি কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই, বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে তাদের জিততেই হবে।
দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে শুরু করেছে জার্মানি। উদ্বোধনী ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন বদলি হিসেবে নামা ডেনিজ উনদাভ। শেষ ৩০ মিনিটে মাঠে নেমে তিনি দু’টি গোল করেন, যার মধ্যে যোগ করা সময়ের বিজয়সূচক গোল ছিল সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। এখন পর্যন্ত মাত্র দুই ম্যাচে তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করে উনদাভ টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার হয়ে উঠেছেন। কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল এখনো তাদের সেরা ছন্দে খেলতে পারেনি। ৯ গোল করে তারা বর্তমানে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা দল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে জার্মানির টানা জয়ের সংখ্যা এখন ১১ ম্যাচে পৌঁছেছে। ইকুয়েডরকে হারাতে পারলে তারা নিজেদের ইতিহাসের দীর্ঘতম জয়ের ধারার সমতায় পৌঁছে যাবে। তবে আক্রমণে সফল হলেও রক্ষণে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। গত ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে গোল হজম করেছে জার্মানি এবং বিশ্বকাপে দীর্ঘ সময় ধরে তারা ক্লিন শিট ধরে রাখতে পারেনি। এর সাথে যোগ হয়েছে সেন্টার-ব্যাক নিকো শ্লটারবেকের চোট, যা তাকে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দিয়েছে।
অন্য দিকে ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন পর্যন্ত হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেও শেষ মুহূর্তের গোলে হারে তারা। এরপর কুরাসাওর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নিজেদের অবস্থান আরো কঠিন করে তোলে। সেই ম্যাচে ২৭টি শট নিয়েও গোল করতে না পারা তাদের সবচেয়ে বড় হতাশা।
কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দল দীর্ঘ দিন ধরেই ড্র করার প্রবণতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের একাধিক ম্যাচ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে। তবে এই ম্যাচে ড্র প্রায় কোনো কাজে আসবে না। শেষ ৩২-এ যেতে হলে তাদের জয়ের বিকল্প নেই। ইকুয়েডরের বড় ভরসা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এনার ভ্যালেন্সিয়া। ৩৬ বছর বয়সী এই অধিনায়ক দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং জাতীয় দলের হয়ে ৫০ গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র এক গোল দূরে আছেন।