সিরিয়ায় দ্রুজদের অস্ত্র দিচ্ছে ইসরাইল

ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানী রিপোর্ট

Printed Edition

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুজ গোষ্ঠীগুলোকে গোপনে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে ইসরাইল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাশার আল-আসাদের পতন এবং আহমদ আল-শারার উত্থানের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই সহায়তা শুরু হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সুয়াইদায় সক্রিয় দ্রুজদের সামরিক কাউন্সিলকে শক্তিশালী করতে আকাশপথে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো হয়। এতে হালকা অস্ত্র, গুলি, বডি আর্মার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসরাইলি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাসহ প্রায় ২০টি সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, এটি ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ, যা এখনো চলমান।

এতে আরো বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দ্রুজ যোদ্ধা ও সিরীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র সরবরাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে গত আগস্টে এই সহায়তার গতি কমে আসে। ওই সময় একটি নিরাপত্তাচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যদিও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দ্রুজ বাহিনীর উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে ইসরাইলের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সহায়তা কমানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরাইল প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার দ্রুজ যোদ্ধাকে ১০০ থেকে ২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভাতা দিচ্ছে।

এ দিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর দেয়া এক বক্তব্যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা অভিযোগ করেন, ইসরাইল দ্রুজদের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বাধা সৃষ্টি করছে। তার মতে, এতে শুধু সিরিয়াই নয়; বরং জর্দান, ইরাক, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি গোটা অঞ্চলে নতুন সঙ্ঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ইসরাইল যদি বাফার জোনে দখল করা এলাকা থেকে সরে আসে, তবে সিরিয়া স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের পথে এগোতে পারবে। এই রিপোর্ট নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের গোপন সামরিক তৎপরতা ও এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর