তৃতীয় গ্রেডের পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতার লঙ্ঘন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর
Printed Edition
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। রাজধানীর খামারবাড়িতে যার প্রধান কার্যালয়। প্রায় ৩ হাজারের মতো বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের এই সংস্থায় ৬ জনকে পরিচালক (দ্বিতীয় গ্রেড) ও ২৬ জনকে অতিরিক্ত পরিচালক (৩য় গ্রেড) পদোন্নতি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের চরম অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার ডিএই’র ৬জনকে পরিচালক পদে এবং বুধবার ২৬ জনকে পরিচালক পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কৃষি মন্ত্রণালয়।
পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রাপ্তরা হলেন- ড. মো: হযরত আলী, মো: ওবায়দুর রহমান মণ্ডল, ড. মো: আব্দুল আজিজ, মো: আব্দুস সাত্তার, ড. জাকির হোসেন ও ড. সালমা লাইজু।
অতিরিক্ত পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত ২৬ জনের মধ্যে ৩ জন ১৮ তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তা। বাকী ২৩ জনই ২০তম বিসিএসের। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, ২৬ টি অতিরিক্ত পরিচালক পদে পদোন্নতি দিতে পরিচিত নং ১৮৫৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত (গ্রেডেশন) তালিকার কর্মকর্তার মধ্যে মেধাবীদের বাদ দেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে বিএনপিপন্থিই বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএই’র ইতিহাসে গ্রেডেশন লঙ্ঘন করে ৩৫ জন কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে হামিদুর রহমানকে ডিজি করা হয় বিগত সরকারের আমলে। প্রতিষ্ঠান প্রধান করার ক্ষেত্রে অতীতে গ্রেডেশন লঙ্ঘনের বেশ কিছু ঘটনা থাকলেও এটি ছিল আলোচিত। তৃতীয় গ্রেডে (অতিরিক্ত পরিচালক) পদোন্নতিতে এবারের মতো জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ঘটনা বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশি মাত্রায় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ফলে মাঠ কৃষিতে উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০তম গ্রেডেশন তালিকা বিশ্লেষ করে দেখা যায়, গ্রেডেশন নম্বর ১৮৯৫ থেকে ১৯৯০ সিরিয়ালের মধ্যে ২৩ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। সিরিয়ালের ১০৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ২০ জন আগেই উপসচিব হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারে চলে গেছেন। ৩ জন মারা গেছেন। আর ৫ জন চাকরি ছেড়েছেন। এই ২৮ জন বাদে বাকী ৭৭ জনের মধ্যে ২৩ জনকে পদোন্নতি প্রদান করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
জানা যায়, বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের ২০ তম ব্যাচের ১ নম্বরে থাকা ড. ফারুক আহমেদকে গতবছরও বাদ দেয়া হয়েছিল। এবছরও বাদ গেছেন। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে রাজধানীতে ৩ টি থানায় দায়ের করা মামলায় নাম রয়েছে। এসব মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ নম্বর আসামি। যদিও এই মামলায় ৭০ জনেরও বেশি কৃষি কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। এই তালিকায় বিএনপি-জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তাকেও জড়ানো হয়। একটি মহল হীন উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ।
ফারুক আহমেদ এর মতো সিরিয়ালে ২ নম্বরে থাকা মুহাম্মদ শাহ আলম গতবার বাদ পড়লেও এবার ২০তম ব্যাচের পদোন্নতি প্রাপ্তদের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছেন তিনি। তার পর থেকেই ১ জন, ২ জন, ৩জন, ৫ জন করে মাঝে মাঝে বাদ দিয়ে তালিকার অনেক নিচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ২৪ জনকে ডিঙিয়ে অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন মো: রফিকুল ইসলাম খান।
খামারবাড়ি সূত্র জানায়, মেধাবী কর্মকর্তা তো বটেই বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত অনেকে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের দলবাজ কর্মকর্তা বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক পরিচালক ও অবসরপ্রাপ বিসিএস (কৃষি) এসোসিয়েশনের মহাসচিব আহমেদ আলী চৌধুরী ইকবাল বলেন, পদোন্নতি তালিকা থেকে যেসব মেধাবী কর্মকর্তাকে বাদ দেয়া হয়েছে তাদের বেশিরভাগই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। মেধাবী কর্মকর্তারা বাদ পড়ায় তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হবে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পুলিশ ভ্যারিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।