কানাডাকে উড়িয়ে শেষ আটে মরক্কো

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টেক্সাসের তীব্র গরম। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। কিন্তু বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাঠে নামা মরক্কো ও কানাডার জন্য সমস্যার কারণ হয়নি। বাইরের তাপমাত্রা অসহ্য হলেও ম্যাচের সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামটি দুই দলের জন্যই ছিল স্বস্তিদায়ক। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে বিশ্বকাপের সহআয়োজক কানাডা। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষে মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই দারুণ সেট পিচ থেকে আজ্জেদিন উনাহির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। পরে করলেন আরো একটি গোল। আর শেষ দিকে সোফিয়ান রাহিমি জালের দেখা পেলে ৩-০ গোলের জয়ে প্রথম দল হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নিলো আফ্রিকার দেশটি।

হিউস্টনে গতকাল রক্ষণাত্মক খেলা শুরু করলেও মাঝমাঠে বল আসার অপেক্ষায় কানাডা। সেখান থেকে মরক্কোর ওপর আগ্রাসীভাবে চাপ সৃষ্টি। শুরুটা ছিল সত্যিই দারুণ, মরক্কোকে পেছনে ঠেলে দিয়ে নিজেদের অভিপ্রায় স্পষ্ট করেই এগিয়ে চলছিল। সেই ধারায় ম্যাচের ১০ মিনিটে নিশ্চিত গোল মিস কানাডার। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ছিলেন সতর্ক। একটি দুর্দান্ত সেভের মাধ্যমে গোল করা থেকে বিরত রাখেন টানি ওলুওয়াসেয়িকে। ১৯ মিনিটে আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় কানাডার। স্টিফেন ইউস্তাকিওর নেয়া কর্নার কিকে বলটি পেনাল্টি স্পটের দিকে ভাসিয়ে দিলে ডিফেন্ডার অ্যালিস্টার জনস্টনের হেডটি মরক্কোর খেলোয়াড়দের জটলায় আটকে যায়।

স্টেডিয়ামের ভেতরের দুয়োধ্বনিই বলে দিচ্ছে যে ম্যাচের প্রথম বিরতি আসন্ন। প্রথম হাইড্রেশন বিরতিটি ঠিক এই মুহূর্তে চায়নি কানাডা। অন্যদিকে পুনরায় গুছিয়ে নেয়ার জন্য এটি ছিল সুন্দর সময় মরক্কোর। বিরতি থেকে ফিরে খেলায় বেশ প্রাণবন্ত ছিল আফ্রিকার দেশটির। ম্যাচের ২৬ মিনিটে গোলের প্রথম প্রচেষ্টা মরক্কোর। সোফিয়ান রাহিমির দূর থেকে নেয়া গতিময় শট সহজেই বাঁচিয়ে দেন ম্যাক্সিম ক্রেপো। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যভাবেই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।

বিরতি থেকে ফিরে শুরু হয় আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের লড়াই। এরই মাঝে প্রথম সফলতা পায় মরক্কো। ম্যাচের ৫০ মিনিটে ডান প্রান্ত ফ্রি কি পায় তারা। কী অসাধারণ এক ফ্রি-কিক কৌশল! অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি এরিয়ার প্রান্তে থাকা আজ্জেদিন উনাহিকে বল বাড়িয়ে দেন। এই মিডফিল্ডার বলটি বাঁকিয়ে গোলপোস্টের নিচের কোণায় জড়িয়ে দেন। চমৎকার পরিকল্পিত সেট পিসের গোল আদায় করে ১-০তে এগিয়ে যায় মরক্কো।

৭৮ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিল কানাডা। মরক্কোর অর্ধে তাজোন বুকাননের একটি শট প্রায় বুনোকে বোকা বানিয়েই দিচ্ছিল। তার নেয়া শটটি বাঁকতে বাঁকতে নিচে নামছিল! কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতায় তা রুখে দেন গোলরক্ষক। চার মিনিট পরই কানাডাকে প্রায় ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় আফ্রিকার দেশটি। সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে কানাডার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় সামনে উঠে গেলে মরক্কো বল কেড়ে নিয়ে দ্রুতগতিতে পাল্টা আক্রমণ করে। বলটি ব্রাহিম দিয়াজের দিকে ঠেলে দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন আজ্জেদিন উনাহি। ফিরতি বলে কাছের পোস্টে জোরালো শটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা চালায় কানাডা। কিন্তু শেষ প্রহরী বুনোকে অতিক্রম করতে পারছিল না তারা। আর এতে হয়ে যায় হিতে-বিপরীতও। কাউন্টার অ্যাটাকে আরো একবার কানাডার জাল কাঁপিয়ে দিল মরক্কো। নির্ধারিত সময় শেষে আট মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে কানাডার জালে শেষ পেরেক ঠুকে দিলেন সোফিয়ান রাহিমি। ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাসে চমৎকার এক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয়ে প্রথম দল হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নিলো মরক্কো।