লা । ই । ফ । স্টা । ই । ল

ভালো রাখুন শ্রবণশক্তি

Printed Edition

রেজা কারিম

গান, কথা, কবিতা যাই বলুন না কেন তা আমাদের একটি ইন্দ্রিয় দ্বারা শুনতে হয়। সে ইন্দ্রিয়টির নাম কান। আমরা কান দিয়ে শুনি। মানুষসহ পৃথিবীর প্রায় সব প্রাণীই কান দিয়ে শোনে। যারা শুনতে পারে না তাদের শুধু অনুভূতি আছে। আমরা ১০৫ ডিগ্রি ডেসিবেল পর্যন্ত শুনতে পাই। এর উপরে শব্দের সংস্পর্শে গেলে আমরা বধির হয়ে যেতে পারি। তাই কিভাবে শ্রবণশক্তি ভালো থাকবে সে ব্যাপারে অবশ্যই আমাদের সচেতন থাকতে হবে। তা না হলে কানে খাটো শব্দটি আমাদের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। নিচে শ্রবণশক্তি ভালো রাখার কিছু উপায় আলোকপাত করা হলো।

১. মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজের প্রতি তাকে তার প্রয়োজনেই লক্ষ্য রাখতে হয়। আমাদের আশপাশে শব্দের মাত্রার প্রতি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। গাড়ির হর্ন, মাইকের আওয়াজ, নির্মাণযন্ত্রের আওয়াজ, গান-বাজনার আওয়াজসহ লক্ষ্য রাখতে হবে যে এদের আওয়াজের মাত্রা যেন সহনশীল হয়। সবার শ্রবণশক্তির বিষয়টি আবার একরকম নয়। ব্যক্তিবিশেষে তা ভিন্ন হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক যে আওয়াজ সহ্য করতে পারে তা একটি শিশু পারে না। একটি নবজাতকের জন্য তো উচ্চ আওয়াজ আরো ভয়াবহ হতে পারে। আবার একজন বৃদ্ধ মানুষের জন্যও তা হতে পারে ভয়াবহ। কারো হার্ট দুর্বল থাকতে পারে। দুর্বলচিত্তের অধিকারী কোনো ব্যক্তির পক্ষে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু বেশি আওয়াজই সহ্য করা কঠিন।

২. নিয়মিত কান পরিষ্কার করুন। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। কোন প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার করবেন তা অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নিবেন। তা না হলে বিপদ হতে পারে। মাঝে মধ্যে কানে সরিষার তেল দেয়া ভালো। তাতে কানের ময়লা বের হয়ে আসে। কানে কটনবাড ব্যবহার করা যায় তবে কটনবাড ছাড়া শক্ত অন্য কিছু ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি কানের ভেতরের নরম পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে কানের বারোটা বাজবে। তখন হাঁস বললে বাঁশ শুনবেন।

৩. কানে হেডফোন ব্যবহার করা বর্তমানে একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেডফোন, ইয়ারফোন, ব্লুটুথ ইত্যাদি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে খুব সাবধান থাকতে হবে। খুব অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া এসবের ব্যবহার না করাই ভালো। অতিরিক্ত ফোনে কথা বলার কারণেও কানের ক্ষতি হতে পারে। মনে রাখতে হবে, বেশি বেশি সবকিছু ভালো নয়। পরিমিত ব্যবহার সব কিছুতেই কাম্য।

৪. মিউজিক ছাড়া গান শোনা উচিত। কুরআন তিলাওয়াত শোনা কানের জন্য যেমন ভালো তেমনি হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য ভালো। মাঝে মধ্যে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাবেন। প্রকৃতির আওয়াজ শোনার চেষ্টা করুন। পাখির কলকাকলি, নদীর কলতান, ঝরনার শব্দ, বাতাসের শব্দসহ প্রকৃতির সব উপাদানের অন্তর্নিহিত শব্দসমূহ শোনার চেষ্টা করুন। দেখবেন শ্রবণশক্তিতো ভালো থাকবেই পাশাপাশি অন্তরে প্রশান্তি লাভ করবেন।