শুরুর গোলেই ফর্টিসকে হারাল আবাহনী
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ম্যাচ শুরুর ৩৩ সেকেন্ডে আক্রমণে আবাহনী লিমিটেড। ডান দিক থেকে বক্সে মিরাজুল ইসলামের বাড়ানো বলে গতি ছিল না। ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেইরা বলের লাইনে থাকলেও ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের পায়ে বল লাগিয়ে জালে প্রবেশ করান মিঠু চৌধুরী। এই গোলকে আগলে রেখে জয় নিয়ে মাঠে ছাড়ে আকাশি-নিল জার্সিধারীরা। লিগে এটি আবাহনীর টানা ষষ্ঠ জয়। আর এই জয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা লড়াই জমে উঠেছে। ১৩ ম্যাচ শেষে আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের পয়েন্ট সমান ২৮। পয়েন্ট সমান হলেও এক ম্যাচ কম খেলে ও গোল পার্থক্যে এখনো শীর্ষেই রয়েছে বসুন্ধরা। আজ যদি নিজেদের মাঠে ব্রাদার্সকে হারায় বা ড্র করে, তাহলেও এককভাবে আবার শীর্ষে ফিরে যাবে ১৩ ম্যাচ খেলা বসুন্ধরা। দিনের অন্য ম্যাচে রহমতগঞ্জকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আরামবাগ। ১৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে রহমতগঞ্জ। আর সমান ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে বেরিয়ে অষ্টম স্থানে উঠেছে আরামবাগ।। ১৪ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে ফর্টিস।
কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করার হাতছানিতে মাঠে নেমে শুরুতে সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় এগিয়ে যায় আবাহনী। ম্যাচ শুরুর প্রথম মিনিটে অদ্ভুত এক গোলে ফর্টিসের বিপক্ষে এগিয়ে যায় আবাহনী। ডান দিক থেকে মিরাজুলের বক্সের ভেতর ফেলা বল ধরতে এগিয়ে যান ফর্টিসের গোলরক্ষক সুজান পেরেইরা। আর বল বিপদমুক্ত করতে এগিয়ে যাওয়া ডিফেন্ডার ও অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জয়ী দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর হুড়োহুড়িতে শেষ পর্যন্ত মিঠুর গায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। মিঠুর সামনে থাকায় বলটি ধরা সম্ভব হয়নি সুজানের পক্ষে।
শুরুতেই এমন গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় ফর্টিস। পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে নিতে আবাহনীর রক্ষণে চাপ দিতে থাকে ফর্টিস এফসি। সেরা সুযোগটি তারা সৃষ্টি করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪২ মিনিটে বাইলাইনের একটু ওপর থেকে ডাওয়া তিসেরিংয়ের আড়াআড়ি ক্রসের নাগাল পাননি মিতুল মারমা, বল চলে যায় গোলমুখে ফাঁকা থাকা ইসা জালোর কাছে; কিন্তু গাম্বিয়ান এই মিডফিল্ডার নেয়া হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। পরের মিনিটে আবার সুযোগ হাতছাড়া হয় ফর্টিসের। এবার বক্সের ভেতর থেকে নিজে শট না নিয়ে ইসা জালো বাড়ান বাম দিকে ফাঁকায় থাকা ওনিয়েকাচি ওকাফোরকে; কিন্তু নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ডের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কমে যায় দুই দলের। আবাহনী গোল আগলে রাখার দিকে ছিল মনোযোগী। ৬৬ মিনিটে ইসা জালোর বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়াল পেরুলেও, আটকে দেন মিতুল। ৭৯ মিনিটে কর্নার আটকাতে মিতুল লাফিয়ে উঠেছিলেন, সে সময় পেছন থেকে ইসা জালো শট নিতে পা চালালে মিতুলের পিঠে লাগে। মাঠে পড়ে যান তিনি। তবে চোট গুরুতর না হওয়ায় কিছুটা সময় চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যান মিতুল। শেষ দিকে আরো চাপ বাড়ায় ফর্টিস। যোগ করা সময়ে ওকাফোরের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যাওয়ার পরপরই শেষের বাঁশি বাজলে ম্যাচ জয়ের আনন্দে মেতে উঠে আবাহনী।