বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হোটেলকর্মীর হাতে খুন হয় নিলি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলিকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেছে মিলন মল্লিক (২৮) নামে এক হোটেল কর্মচারী। অভিযুক্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসূত্রে জানা যায়, আটক মিলনের সাথে নিলির সুসম্পর্ক ছিল। ওই সুবাদে সে বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে নিলির কাছে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করত। এ ছাড়া নিলির পরিবার গ্রামের বাড়িতে গেলে মিলন তাকে নিয়ে পালিয়ে যাবে বলে জানায়। পরে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার বাসায় একা পেয়ে মিলন নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় মিলন এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পরে মো: মিলন মল্লিককে বাগেরহাট সদর এলাকা থেকে আটক করে র‌্যাব-৩।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায় ঘটনার দিন দুপুরে মিলন মল্লিক ভিকটিমের বাসায় যায় এবং নিহতের বড় বোন শোভা আক্তারের সাথে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে নিহতের বোন জিমে চলে গেলে মিলন ফের একা বাসায় যায় এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে বের হয়ে আসে। ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে যায়। এরপর র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-৬ এর যৌথভাবে বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে মিলন। দীর্ঘদিন ধরে নিহতকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই প্রস্তাব দিলে নিলি তাকে বকাঝকা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মিলন। ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের দড়ি নিয়ে ভিকটিমের বাসায় যায়। এক পর্যায়ে অনৈতিক প্রস্তাবে আবারো রাজি না হওয়ায় দড়ি দিয়ে গলা চেপে ধরে। ভিকটিম চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান, অভিযান চলাকালে মিলনের কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের দড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেফতার মিলন একজন মাদকসেবী। এর আগেও মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।