ধামরাই হার্ডিঞ্জ স্কুলে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ

Printed Edition

নবীন চৌধুরী ধামরাই (ঢাকা)

ঐতিহ্যবাহী ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় সরকারি ঘোষণা হলেও দীর্ঘ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এখনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র সরকারি হলেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রম চলছে আগের নিয়মেই। ফলে প্রতি বছর অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও বিভিন্ন খাতে অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে অভিভাবকদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি ঘোষণার পরও প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের নতুন করে ভর্তি হতে হচ্ছে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় সেশন চার্জ বাবদ এক হাজার টাকা, উন্নয়ন ফি তিন হাজার টাকাসহ অন্যান্য ফি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি মাসিক বেতন হিসেবে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ১৭০ টাকা এবং নবম থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ১৯০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এতে করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর জন্য বছরে মোট চার হাজার ৬২০ টাকা এবং নবম-দশম শ্রেণীর ক্ষেত্রে চার হাজার ৬৪০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, লাগামছাড়া ভর্তি ও উন্নয়ন ফি জোগাতে গিয়ে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো চরম সঙ্কটে পড়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলেখা বেগম বলেন, ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করার ঘোষণা দেয়া হলেও এখনো কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা তারা পাননি। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ২৪টি শাখা রয়েছে। পাঠদানের জন্য এমপিওভুক্তসহ মোট ১৭ জন শিক্ষক, ২৮ জন অতিথি শিক্ষক ও ১২ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। অতিথি শিক্ষক ও অতিরিক্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব বলেন, হার্ডিঞ্জের শিক্ষকরা এখনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি বেতন পান না। পূর্বের রেজুলেশন অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।