যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইউরোপীয় কমিশনার

গ্রিনল্যান্ড দখলে নিলে ন্যাটোর ইতি ঘটতে পারে

Printed Edition
Int-1
আন্দ্রিউস কুবিলিউস

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ডের দখল নিলে তা ন্যাটো সামরিক জোটের অবসান ঘটাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার আন্দ্রিউস কুবিলিউস। সোমবার সুইডেনে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে কুবিলিউস বলেন, যদি ডেনমার্ক অনুরোধ করে তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা দিতে সাহায্য করতে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাষ্ট্রের একটি স্বায়ত্তশাসিত অংশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই আর্কটিক অঞ্চলটিকে রাশিয়া অথবা চীনের অধিকারে যাওয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিতে হবে, সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যথেষ্ট নয়। ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র, উভয়েই ন্যাটো সদস্য দেশ। চলতি সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনার জন্য তাদের বৈঠক করার কথা।

গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক জানিয়েছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। কিন্তু ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটি দখল নেয়ার বিষয়টি বাতিল করেননি। সুইডেনের ওই নিরাপত্তা সম্মেলনে কুবিলিউস রয়টার্সকে বলেন, “আমি ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর সাথে একমত যে এটি ন্যাটোর অবসান ঘটাতে পারে, কিন্তু মানুষের মধ্যেই (এর প্রতিক্রিয়া) খুব খুব নেতিবাচক হবে।”

তিনি আরো বলেন, “এটি জনগণের মধ্যে ও আমাদের ট্রান্স আটলান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।” সোমবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোস্যালে এক পোস্টে বিস্তারিত কিছু না বলে বা কোনো প্রসঙ্গের অবতারণা না করে ট্রাম্প বলেছেন, “আমিই সেই ব্যক্তি যে ন্যাটোকে রক্ষা করেছে!!!”

কুবিলিউস জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন না মার্কিন সামরিক আক্রমণ সহসাই শুরু হবে কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির অনুচ্ছেদ ৪২-এর ৭ ধারা অনুযায়ী সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ডেনমার্ককে সহায়তা করতে বাধ্য। তিনি বলেন, “এটা অনেকাংশেই ডেনমার্কের ওপর নির্ভর করবে তারা কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তাদের অবস্থান কী হবে। কিন্তু আরেক সদস্য রাষ্ট্র সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হলে (ইইউয়ের) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার নিশ্চিত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।”

কুবিলিউস বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখল করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সব দিকের ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, “ কে এই দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেবে আর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউরোপের যে সব সম্পর্ক আছে সেগুলোতে কী প্রভাব পড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকানরা পুরোপুরি বেদনাদায়ক নেতিবাচক পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে।”

কুবিলিউস জানিয়েছেন, ইইউ গ্রিনল্যান্ডের জন্য আরো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে যদি ডেনমার্ক অনুরোধ করে। এগুলোর মধ্যে সেনা পাঠানো এবং যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন-বিধ্বংসী সক্ষমতার মতো সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে। “গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিকের প্রতিরক্ষায় কী প্রয়োজন তা সামরিক লোকজনই বলতে পারবে, তবে সবকিছুই সম্ভব,” বলেছেন তিনি।