চীন পাকিস্তান জাপানসহ বিশ্ব নেতাদের অভিনন্দন
সফরের আমন্ত্রণ মোদির
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এতে তিনি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে চীন তারেক রহমানের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানান।
অভিনন্দন বার্তায় লি কিয়াং লিখেছেন, চীন ও বাংলাদেশ প্রতিবেশী এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব উপভোগকারী প্রতিবেশী। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক পুরনো। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৫১ বছরে চীন ও বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সমানভাবে সম্মানজনক আচরণ করেছে ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা বজায় রেখেছে। দেশ দু’টি বিনিময়ের একটি চমৎকার উদাহরণ স্থাপন করেছে। চীন সরকার মসৃণ শাসনব্যবস্থা প্রয়োগে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সমর্থন করে।
লি কিয়াং বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে, সব ক্ষেত্রে উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এবং বিনিময় বৃদ্ধি করতে চীন-বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে কাজ করতে আমি প্রস্তুত, যাতে দুই দেশের জনগণের জন্য আরো সুবিধা বয়ে আনা যায়।
তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির : সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিজয় ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চিঠিতে স্ত্রী, কন্যাসহ তারেক রহমানকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, বিএনপির বিজয় আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন। শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য জনগণ আপনাকে ম্যান্ডেট দিয়েছে।
তিনি আরো লিখেছেন, আমাদের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং কনেক্টিভিটি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর অভিন্ন লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে আপনার সাথে আমি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। অর্থনৈতিকভাবে দু’টি দ্রুত গতিশীল দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক অগ্রগতিতে একসাথে কাজ করতে পারে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানাই তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান তাকাইচি সানাই। সেই সাথে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টার আরো প্রচারকে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন : পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মুর্তাজা সোলাঙ্গি এক্সে জানান, তারেক রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এবং এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্তায় আশা প্রকাশ করা হয়, নবনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের জনগণকে গর্বিত করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে শান্তি ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মুখপাত্র আরো জানান, এই পুরো প্রক্রিয়া পাকিস্তানের জনগণের জন্যও আনন্দদায়ক এবং তারা বাংলাদেশের জনগণ ও নতুন সরকারের সাফল্য কামনা করে।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির শীর্ষ নেতারা নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দনবার্তায় তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়া : তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে মূল্যবান অংশীদারত্ব রয়েছে। একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে আপনার সাথে কাজ করার প্রত্যাশা রাখে অস্ট্রেলিয়া।’
ইউএনডিপি : বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করা তার জন্য সম্মান ও আনন্দের বিষয় ছিল। তিনি নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নতুন দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, নতুন সরকার ও সংসদ যেন তাদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারে- সেই প্রত্যাশা সুইজারল্যান্ডের।