ডেলসি রদ্রিগেজর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

আলজাজিরা

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিশেষভাবে তালিকাভুক্ত নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের তালিকা থেকে তার নাম সরানো হয়েছে। রদ্রিগেজ সিদ্ধান্তটি স্বাগত জানিয়ে এক বার্তায় ভেনিজুয়েলার ওপর আরোপিত অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সুদৃঢ় করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আমরা বিশ্বাস করি, এই অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত দেশের সক্রিয় নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের পথ খুলে দেবে।’

ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাদুরোকে মতাচ্যুত করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার রাজনীতিতে তার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন।

রদ্রিগেজকে ২০১৮ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দফতর (ওএফএসি)। এই নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্রে তার সম্পদ জব্দ করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠান তার সাথে ব্যবসা করতে পারত না। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, রদ্রিগেজ ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্র ধ্বংসে জড়িত একদল সরকারি নেতার অংশ এবং তারা দেশের জনগণের তির বিনিময়ে নিজেদের সম্পদ বাড়াচ্ছিলেন।

নিষেধাজ্ঞার সময় রদ্রিগেস দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরো অপহৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফোরেসকেও ওই অভিযানে আটক করা হয়েছিল। বর্তমানে মাদক পাচার ও অস্ত্র রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের অপোয় রয়েছেন তারা।

আইনজ্ঞদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রদ্রিগেজ নিজেও মাদুরো ও ফোরেসকে ভেনিজুয়েলায় ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেছেন।