উজিরপুরে তালগাছের স্বল্পতায় অস্তিত্ব সঙ্কটে বাবুই পাখি
Printed Edition
উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় তালগাছের স্বল্পতা ও পরিবেশগত নানা প্রতিকূলতায় অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি। আবহমান বাংলার প্রকৃতিতে নিখুঁত বাসা তৈরির জন্য খ্যাত এই পাখিটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। কালের বিবর্তনে গ্রামাঞ্চলের প্রকৃতি যেমন বদলেছে, তেমনি বদলে গেছে বাবুই পাখির চিরচেনা আবাসস্থল তালগাছ।
এক সময় উজিরপুর উপজেলার গ্রাম্য মেঠোপথ, খালপাড়, বাড়ির উঠান কিংবা রাস্তার ধারে উঁচু উঁচু তালগাছে ঝুলে থাকত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকত চারপাশ। অথচ কয়েক বছর আগের সেই চিত্র এখন আর চোখে পড়ে না। মাইলের পর মাইল হেঁটে গেলেও খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা মেলে বাবুই পাখির কিংবা তার শৈল্পিক বাসার নিদর্শন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশালের অন্যান্য এলাকার মতো উজিরপুরেও বাবুই পাখি প্রায় বিলুপ্তির পথে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই বাবুই পাখিকে কেবল বইয়ের পাতায় কিংবা ছবিতেই দেখেছে; বাস্তবে দেখার সুযোগ হয়নি। ১৮ থেকে ২০ বছর আগেও হারতা, সাতলা, জল্লা ও ওটরা ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই তাল ও খেজুরগাছে ঝুলে থাকত বাবুই পাখির বাসা।
স্থানীয়দের ধারণা, বছরের পর বছর নির্বিচারে তালগাছ নিধনের ফলে বাবুই পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাবুই পাখি বিলুপ্তির অন্যতম কারণ।
প্রকৃতির এই অনন্য কারিগর বাবুই পাখির বাসা তৈরির প্রক্রিয়াও অত্যন্ত বিস্ময়কর। পুরুষ বাবুই পাখি প্রথমে অর্ধেক বাসা তৈরি করে স্ত্রী সঙ্গীর সম্মতির অপেক্ষায় থাকে। স্ত্রী পাখি বাসা পছন্দ করলে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বাসাটি তৈরি করা হয়। বাসার নিচের অংশে দু’টি গর্তের মতো করে তৈরি করা হয়, যার একটি দিয়ে যাতায়াত এবং অন্যটি ডিম রাখার জন্য রাখা হয়। স্ত্রী পাখি বাসা অপছন্দ করলে পুরুষ পাখি অর্ধেক কাজ ফেলে নতুন করে বাসা বানাতে শুরু করে।