চাঁদ অভিমুখে আর্টেমিস : মহাকাশে নতুন ইতিহাস গড়ছেন ৪ নভোচারী

Printed Edition
onno-3
নাসার সরবরাহ করা ভিডিও থেকে সংগৃহীত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে আর্টেমিস টু মিশনের চার নভোচারীকে। গত বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চাঁদের পথে থাকাকালীন তারা নাসা মিশন কন্ট্রোলের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। ছবিতে বাম থেকে রয়েছেন: কানাডিয়ান নভোচারী ও মিশন বিশেষজ্ঞ জেরেমি হ্যানসেন, কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কোচ এবং পাইলট ভিক্টর গ্লোভার : ইন্টারনেট

রয়টার্স

ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে গতকাল সোমবার ভোরে চাঁদের মহাকর্ষীয় সীমানায় প্রবেশ করেছেন নাসার আর্টেমিস টু মিশনের চার নভোচারী। গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে তারা এখন চাঁদের অন্ধকার অংশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ তারা পৃথিবী থেকে প্রায় দুই লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরে পৌঁছানোর কথা, যা গত ৫৬ বছর ধরে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের দখলে থাকা রেকর্ডের চেয়ে চার হাজার ১০২ মাইল বেশি।

নাসার তিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার সময় চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মাইল উপর দিয়ে ভ্রমণ করবেন। সেখান থেকে তারা মহাকাশে বাস্কেটবলের মতো ছোট দেখাবে এমন পৃথিবীকে সাক্ষী রেখে চাঁদের দূরবর্তী প্রান্তের বিরল দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করবেন। ১০ দিনের এই আর্টেমিস টু মিশনটি নাসার নতুন চন্দ্র অভিযানের প্রথম মানববাহী পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। ২০২৮ সালের মধ্যে চীনকে পেছনে ফেলে চাঁদে মানুষ পাঠানো এবং পরবর্তী দশকে সেখানে স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি তৈরির যে লক্ষ্য নাসা নির্ধারণ করেছে এটি তারই একটি বড় ধাপ।

অভিযান চলাকালীন সোমবার দুপুর থেকে প্রায় ছয় ঘণ্টা নভোচারীরা অন্ধকারের মধ্যে থাকেন। এ সময় চাঁদের আড়ালে চলে যাওয়ায় নাসার ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের সাথে তাদের যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এই বিশেষ ফ্লাইবাই বা পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নভোচারীরা ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে পেশাদার ক্যামেরায় চাঁদের বিরল সব ছবি তুলবেন। বিশেষ করে চাঁদের প্রান্ত ঘেঁষে সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ যা অনেকটা চন্দ্রগ্রহণের মতো দেখাবে সেই দৃশ্য ধারণ করা হবে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। চাঁদের অন্য প্রান্ত থেকে যখন ক্যাপসুলটি বেরিয়ে আসবে তখন তারা দিগন্ত থেকে পৃথিবীর উদয় হওয়ার এক বিস্ময়কর মুহূর্তের ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে একদল বিজ্ঞানী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। নভোচারীরা মহাকাশ থেকে সরাসরি যা দেখবেন এবং বর্ণনা করবেন তা নোট করবেন এই বিজ্ঞানীরা যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহসহ আরো বড় মহাকাশ অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে। মূলত এই পুরো মিশনটি ভবিষ্যতের জটিল সব অভিযানের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে নাসা।