বাধা পেরিয়ে লিয়ারির নারী ফুটবলারদের ফেরার গল্প
Printed Edition
সাকিবুল হাসান
করাচির ঐতিহাসিক লিয়ারি এলাকা এবং সেখানকার মেয়েদের ফুটবলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার এক আবেগঘন আখ্যান নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন সিনেমা ‘মেরা লিয়ারি’। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির ট্রেলার দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আবু আলিহার রচনা ও পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রটিকে ভারতীয় সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর পাকিস্তানি সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে আয়েশা ওমরকে কেন্দ্র করে, যিনি একজন ফুটবল কোচের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে একসময় তার খেলোয়াড় জীবনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষত নিয়েই তিনি লিয়ারিতে ফিরে আসেন সেখানকার কিশোরীদের ফুটবল শেখাতে। সেখানে আফসানা (দানানির মুবিন) এবং কাশমালা (ট্রিনেট লুকাস) সমাজের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে কোচের কাছে গোপনে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে। তাদের জন্য ফুটবল ছিল জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকার এক আশ্রয়। তবে ট্রেলারে দেখা যায়, আফসানার বাবা যখন জানতে পারেন তার মেয়ে ফুটবল খেলছে, তখন তাকেও ঠিক তেমনই নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হতে হয়, যা একসময় তার কোচকে সহ্য করতে হয়েছিল।
সিনেমাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বাস্তবতা। পরিচালক আবু আলিহা জানান, চলচ্চিত্রটির ৮০ শতাংশ শিল্পীই লিয়ারির স্থানীয় বাসিন্দা, যার মধ্যে ফুটবল টিমের সদস্য এবং মূল অভিনেতা শোয়েব হাসানও রয়েছেন। এমনকি পুরো শুটিং হয়েছে লিয়ারির আসল লোকেশনে। অভিনয়ের পাশাপাশি আয়েশা ওমর এই সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি এটিকে কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াকু নারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর এবং আত্মপরিচয় সন্ধানের এক শক্তিশালী গল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সিন্ধু সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নির্মিত এই সিনেমাটি আগামী ৮ মে পাকিস্তানে মুক্তি পাবে। তার আগে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিশেষ প্রদর্শনী হবে। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আর পারিবারিক সহিংসতার দেয়াল ভেঙে লিয়ারির মেয়েরা কীভাবে ফুটবলের মাঠে নিজেদের জয়গান গায়, সেই অদম্য চিত্রই উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে।