বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিএইচআরএফের উদ্বেগ
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
বাংলাদেশে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)। গতকাল রোববার বিএইচআরএফের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান ও মহাসচিব এ এম জিয়া হাবীব আহ্সান এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত ৫-১১ এপ্রিল সময়কালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সহিংসতা, হত্যা, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা, চাঁদাবাজিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এবং শিল্প দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও মানবিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে বলে রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংস্থাটি। নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে মব সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা প্রমাণ করে যে হাতে আইন তুলে নেয়ার প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সময়ে নারী ও শিশুদের ওপর নির্মম সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে এবং শিশুদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাগুলো মানবিক মূল্যবোধের চরম অবয়ের প্রতিফলন। একই সাথে চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ, ভূমি বিরোধে নারী ও শিশুকে উচ্ছেদ, প্রতারণার মাধ্যমে যৌন নির্যাতন, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ঘুষ, নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সুশাসন ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা শ্রমিক নিরাপত্তাব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং দায়িত্বহীনতার সুস্পষ্ট উদাহরণ। বিএইচআরএফ দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছে যে মব সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ও দ্রুত বিচারব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সকল শিল্প কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, বৈষম্য হ্রাসে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং সব ভুক্তভোগীর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয় বরং একটি কাঠামোগত সঙ্কটের প্রতিফলন, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা এবং মব জাস্টিসের প্রবণতা আমাদের বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা অবিলম্বে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।